29.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকদমতলীর শিশুর দেহ ড্রামে পাওয়া, মোবাইল চুরির বিবাদে মা-সঙ্গী গ্রেফতার

কদমতলীর শিশুর দেহ ড্রামে পাওয়া, মোবাইল চুরির বিবাদে মা-সঙ্গী গ্রেফতার

ঢাকার কদমতলীর খানকাহ শরিফ এলাকায় সাত বছর বয়সী রিফাতের অদৃশ্য হওয়ার পর তার দেহ প্লাস্টিকের ড্রামে পাওয়া যায়। প্রতিবেশী মায়া বেগম, যাকে লাবণী নামেও চেনা যায়, মোবাইল ফোন চুরির বিবাদে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হয়েছে।

রিফাতের মা মুন্নি আক্তার ২০শে ফেব্রুয়ারি রাতে সন্তানকে খেলতে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফিরে না আসায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কদমতলী থানা দ্রুত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তৈরি করে তদন্ত শুরু করে।

পরের দিন, গেন্ডারিয়া এলাকার একটি গাছের নিচে অবস্থিত ময়লার স্তূপে পুলিশ একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে শিশুর দেহ উদ্ধার করে। ড্রামের ভিতরে রিফাতের মৃতদেহের পাশাপাশি একটি কামিজও পাওয়া যায়, যা পরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।

দেহটি মুন্নি আক্তারের হাতে তুলে নিয়ে গিয়ে তিনি তা নিজের সন্তান বলে স্বীকার করেন। মৃতদেহের সঙ্গে থাকা পোশাক এবং ড্রামের অবস্থান থেকে পুলিশ দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে রিফাতের বোনের কথায় জানা যায়, একই ধরনের কামিজ তাদের প্রতিবেশী মায়া বেগমের মেয়ের দেহে দেখা গিয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মায়ার বাড়িতে অনুসন্ধান চালায় এবং সন্দেহ বাড়ে।

অনুসন্ধানের সময় মায়া বেগমের বাড়িতে পাওয়া কামিজটি ড্রামের সঙ্গে মেলানো হয়, ফলে তার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর মায়া বেগম শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

মায়া বেগমের মতে, দুই পরিবারের মধ্যে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ নিয়ে পূর্বে বিরোধ চলছিল। কয়েক মাস আগে রিফাতের বোনকে তার নিজের মোবাইল চুরির অভিযোগে সন্দেহ করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে রিফাতকে একা পেয়ে খাবারের প্রলোভন দিয়ে বাড়িতে ডাকার পর, মোবাইল চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার সময় তিনি শিশুটিকে থাপ্পড় দেন, যার ফলে শিশুর মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যু ঘটে।

মায়া বেগম দাবি করেন, শিশুর মৃত্যু ঘটার পর তিনি দেহটি ড্রামে ভরে রাতভর বাড়িতে রাখেন এবং পরের সকালে অটো-রিকশা দিয়ে গেন্ডারিয়ার লোহারপুল এলাকায় গিয়ে ময়লার স্তূপে ফেলে দেন।

মায়া বেগম স্থানীয় একটি স্কুলে দপ্তরী হিসেবে কাজ করেন, আর তার স্বামী রিকশা গ্যারেজে কর্মরত। অপরদিকে রিফাতের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন অটো-রিকশা চালক, পরিবারটি নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

পুলিশের মতে, মায়া বেগমকে গ্রেফতার করার পর তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং হিংসা ও হত্যার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তকর্তা শ্রী শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, মামলায় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

বর্তমানে ডিএম হেডকোয়ার্টার থেকে তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিসিটিভি রেকর্ড, ড্রামের ভিতরের জামিনের কাপড় এবং সাক্ষ্যগুলোকে ভিত্তি করে প্রমাণের দৃঢ়তা বাড়ানো হচ্ছে।

অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে ড্রামের উৎপত্তি, কামিজের ক্রয় রসিদ এবং মোবাইল ফোনের মালিকানা যাচাই করা হবে। মামলাটি স্থানীয় আদালতে দায়ের হওয়ার পরপরই শোনানির তারিখ নির্ধারিত হবে, যেখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি চাওয়া হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে কদমতলীর নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী সম্পর্কের সমস্যাগুলো পুনরায় আলোচনার মুখে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অপরাধ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments