ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড নেইমার, যিনি সম্প্রতি সান্তোসের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছেন, ২০২৬ সালের শেষের দিকে ক্যারিয়ার শেষ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে এখন তিনি বছর থেকে বছর বেঁচে চলছেন এবং ডিসেম্বরের দিকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
নেইমার জানুয়ারি ২০২৫-এ সান্তোসে ফিরে এসে দলকে ব্রাজিলের টপ ফ্লাইটে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শেষ পাঁচটি ম্যাচে তিনি ধারাবাহিকভাবে গোল করেন, মোট পাঁচটি গোলের মাধ্যমে ক্লাবের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেন।
তবে সাম্প্রতিক সিজনে ধারাবাহিক আঘাতের কারণে তার শারীরিক অবস্থা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে তার হাঁটুতে করা সফল সার্জারির পরেও, তিনি অক্টোবর ২০২৩ থেকে জাতীয় দলে অংশগ্রহণ করেননি।
নেইমার বললেন, “আমি এখন কী হবে জানি না, আগামী বছর কী হবে তা জানি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “ডিসেম্বর এলে আমি অবসর নিতে চাইতে পারি।” এই মন্তব্যগুলো ব্রাজিলীয় অনলাইন চ্যানেল ক্যাজে-তে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্রাজিলের জাতীয় দলও এই বছরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলছে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রাজিলের কোচ কার্লো অ্যানসেলোত্তি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বকাপের জন্য শুধুমাত্র সম্পূর্ণ ফিট খেলোয়াড়দেরই নির্বাচন করা হবে। তাই নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নেইমার এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ৭৯টি গোল করেছেন, যা কোনো ব্রাজিলীয় খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই রেকর্ড তাকে দেশের সর্বকালের শীর্ষ স্কোরার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কিন্তু তার সাম্প্রতিক আঘাতের পর থেকে তিনি জাতীয় দলে কোনো ম্যাচে উপস্থিত হননি, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সান্তোসে ফিরে আসার পর তিনি দলের আক্রমণগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, বিশেষ করে শেষ পাঁচটি গেমে ধারাবাহিক গোলের মাধ্যমে দলকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছেন।
নেইমার তার ক্যারিয়ারকে নিয়ে বললেন, “এই বছরটি সান্তোসের জন্যই নয়, ব্রাজিলের জাতীয় দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং নিজের শারীরিক অবস্থা দুটোই সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ব্রাজিলের কোচ অ্যানসেলোত্তি দলের জন্য একটি শক্তিশালী ও ফিট স্কোয়াড গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন, যা বিশ্বকাপের কঠিন প্রতিযোগিতায় সফল হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “ফিটনেস ছাড়া কোনো খেলোয়াড়ের স্থান নেই।” এই নীতি নেইমারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নেইমার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা এখনো অনিশ্চিত, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে তার শারীরিক অবস্থা এবং বয়সের কারণে তিনি বছরের পর বছর পরিকল্পনা করে বেঁচে আছেন। তার অবসর পরিকল্পনা এবং বিশ্বকাপের সম্ভাবনা উভয়ই ভক্তদের মধ্যে বড় আলোচনার বিষয়।
ব্রাজিলের ফুটবল জগতে নেইমারের অবদান অস্বীকার করা যায় না, তবে তার শারীরিক সীমাবদ্ধতা এবং বয়সের প্রভাব তাকে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে বাধ্য করছে। এই পরিস্থিতি জাতীয় দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
যে কোনো সিদ্ধান্তই হোক, নেইমারের ক্যারিয়ার ইতিমধ্যে ব্রাজিলীয় ফুটবলে অম্লান ছাপ রেখে গেছে, এবং তার অবসর বা অব্যাহত উপস্থিতি উভয়ই দেশের ফুটবলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



