ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ২১ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে সরাইল উপজেলার শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন। তবে একই সময়ে শহীদ মিনার এলাকায় একদল যুবক মিছিলের আয়োজক, যাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন আনোয়ার হোসেন মাস্টার, রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক অর্পণে বাধা সৃষ্টি করেন এবং তাকে ফুল না দিয়ে ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
রুমিন ফারহানা প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পৌঁছিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা গর্জে ওঠে, রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে এবং রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক গ্রহণে বাধা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনায় পরিণত হয়, ফলে রুমিন ফারহানা নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে ফুল না দিয়ে তৎক্ষণাৎ স্থান ত্যাগ করেন।
ফুল না দিয়ে ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধের আয়োজন করেন। অবরোধটি সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় গড়ে ওঠে এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে, যার ফলে দুই পাশে প্রায় দশ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। সাধারণ যাত্রীদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেকেই ভোগান্তির মুখোমুখি হন।
অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
রুমিন ফারহানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, এই হামলা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে এবং তা পার্টির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে আরও বড় পরিণতি দেখা দিতে পারে। তিনি বিএনপি-কে সতর্ক করে বলেন যে, যদি দলটি তার সদস্যদের ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না রাখে, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়তে পারে।
এদিকে রুমিন ফারহানা একটি আহত কর্মী, আব্দুল আহাদ, এর অবস্থাও মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, আহাদ ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের দায়িত্ব বাড়িয়ে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে।
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শীতল করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অবরোধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রুমিন ফারহানা এবং তার সমর্থকরা ঘটনাটিকে বিএনপি-র তরফে পরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যেখানে বিএনপি পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এ ধরনের সংঘাত ভবিষ্যতে দু’দলীয় সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
অবশেষে, রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার আইনি দিকটি দ্রুত সমাধান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে। পুলিশ ইতিমধ্যে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করেছে এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে সমান ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।



