সুপার ইটের টি-২০ বিশ্বকাপের নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের শেষ এক-দুই দিন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তীব্র। দলীয় ব্যাটিং শৃঙ্খলে বাবর ও ফখরের মধ্যে স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্তই মূল প্রশ্ন, বিশেষ করে বাবরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দলীয় প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তার অবস্থান ঝুঁকির মুখে।
বাবর টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ধারক, মোট ৪৫৭১ রান সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ২৯৭৩ রান তিনি ওপেনার হিসেবে করেছেন, যা তাকে দেশের শীর্ষ ওপেনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে এই টুর্নামেন্টে তিনি ওপেনার নয়, চার নম্বর ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় আছেন।
বিশ্বকাপের বর্তমান পর্যায়ে বাবর তিনটি ম্যাচে মোট ৬৬ রান করেছেন, যার মধ্যে ৪৬ রান যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অর্জিত। তার মোট চার নম্বর অবস্থানে ৭টি ইনিংসে ১৮৫ রান, গড় ৩০.৮৩ এবং স্ট্রাইকরেট ১১৮.৫৮। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে তিনি মাঝারি গতি বজায় রাখলেও উচ্চ স্কোরে পৌঁছাতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ফখর টি-২০ ক্যারিয়ারে ২১টি ইনিংসে চার নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০১ রান করেছেন। তার গড় ২৫.০৫ হলেও স্ট্রাইকরেট ১৫০.৪৫, যা বাবরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত। ফখরের আক্রমণাত্মক শৈলী প্রথম বলেই বড় শট খেলতে সক্ষম, ফলে দ্রুত রানের প্রবাহ তৈরি করতে পারে।
দুই খেলোয়াড়ের রেকর্ড তুলনা করলে দেখা যায়, উভয়েরই চার নম্বর অবস্থানে অসাধারণ রেকর্ড নেই, তবে ফখরের উচ্চ স্ট্রাইকরেট দলীয় আক্রমণে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। টি-২০ ফরম্যাটে দ্রুত রানের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ফখরের শৈলী পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য অধিক উপযোগী হতে পারে।
বাবরের নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ডও নজরকাড়া। তিনি মোট ২৪টি ইনিংসে ৮৮০ রান করেছেন, যার মধ্যে আটটি পাঁচক এবং একটি শতক রয়েছে। তবে এই দলীয় বিপক্ষে তিনি কখনোই চারে আউট হননি, যা তার স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।
নির্বাচন কমিটির সামনে এখন দুটি বিকল্প রয়েছে: অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা ভিত্তিক বাবরকে রাখবেন নাকি ফখরের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা কাজে লাগাবেন। বাবরের ওপেনার হিসেবে প্রমাণিত রেকর্ড ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ধারাবাহিকতা তাকে মূল্যবান করে তুললেও, বর্তমান টুর্নামেন্টে তার চার নম্বর পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
ফখরের উচ্চ স্ট্রাইকরেট ও দ্রুত রানের ক্ষমতা টি-২০ ম্যাচে প্রাথমিক চাপ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে যখন দলকে দ্রুত স্কোরে পৌঁছাতে হয়। কোচিং স্টাফের জন্য এই দুই বিকল্পের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে দলীয় গতি ও স্থিতিশীলতা দুটোই বজায় থাকে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শীর্ষে দাঁড়াতে চায়, এবং শেষ এক-দুই দিন নির্বাচন প্রক্রিয়া তীব্রভাবে চলবে। দলীয় কৌশল, খেলোয়াড়ের ফর্ম এবং পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে টুর্নামেন্টে অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।
পরবর্তী ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, এবং নির্বাচিত ব্যাটসম্যানের পারফরম্যান্স সরাসরি ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি ফখরকে সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তার দ্রুত রানের সম্ভাবনা শুরুর ওভারগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, বাবরের অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতা মাঝারি ও শেষের ওভারগুলোতে সমর্থন দেবে।
সারসংক্ষেপে, বাবরের দীর্ঘমেয়াদী রেকর্ড ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ধারাবাহিকতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী করে তুললেও, বর্তমান টুর্নামেন্টে তার চার নম্বর পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ফখরের উচ্চ স্ট্রাইকরেট ও আক্রমণাত্মক শৈলী বেশি প্রাধান্য পেতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে এই দুই বিকল্পের মধ্যে সঠিক সমন্বয় করে টি-২০ বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।



