19.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশহীদ মিনারে এনসিপি নেতাদের ব্যানার দেখার পর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান ও ব্যানার...

শহীদ মিনারে এনসিপি নেতাদের ব্যানার দেখার পর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান ও ব্যানার অপসারণ

শহীদ মিনার, ঢাকা – আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবসের সমাবেশের পর শুক্রবার রাত প্রায় দুইটায়, জাতীয় পার্টি (এনসিপি) ইউনিটের কয়েকজন নেতাকর্মী শৌখিনভাবে ব্যানার ও ফুলের তোড়া হাতে মিনার এলাকায় প্রবেশ করেন। একই সময়ে, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিএনপি) সম্পর্কিত ব্যানার ও ফুলের সাজসজ্জা সেখানে স্থাপিত ছিল, যা এনসিপি সদস্যদের দৃষ্টিতে অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়।

প্রতিবেশীর চোখে দেখা যায়, এনসিপি দলের নেতারা ব্যানার ও ফুলের তোড়া হাতে ধীরে ধীরে মিনার প্রবেশদ্বার পার করে, তবে তাদের উপস্থিতি তৎক্ষণাৎ কিছু দর্শকের দৃষ্টিতে নিন্দা পায়। ব্যানারটি দেখেই কিছু লোক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে, যা দ্রুতই সমাবেশের পরিবেশে শোনা যায়।

সেই মুহূর্তে এনসিপি দলের কয়েকজন সদস্য ব্যানার ও ফুলের তোড়া তুলে নেন এবং সেগুলোকে মাটিতে ফেলে দেন। এই কাজের পর তারা কোনো আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা অর্পণ না করেই, সরাসরি মিনার এলাকা ত্যাগ করেন। তাদের এই আচরণকে কিছু অংশের লোকজন ‘অশোভন’ বলে সমালোচনা করে, অন্যদিকে এনসিপি দল এটিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত দুইটার দিকে এনসিপি ইউনিটের কয়েকজন সদস্য ব্যানার ও ফুলের তোড়া হাতে একে একে মিনারে প্রবেশ করছিলেন, তবে সেখানে কোনো কেন্দ্রীয় নেতার পরিচিতি পাওয়া যায়নি। ব্যানারটি দেখেই তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শুরু করে এবং এক পর্যায়ে ব্যানার ও ফুলের তোড়া তুলে নেয়।

ব্যানারটি তুলে নেওয়ার পর এনসিপি দলের সদস্যরা কোনো আনুষ্ঠানিক শোকসূচক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে, সরাসরি এলাকা ত্যাগ করেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দুইটি বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

এনসিপি দলের মুখপাত্ররা পরে জানিয়েছেন, শহীদ মিনার জাতীয় শোকের প্রতীক এবং সেখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যানার স্থাপন করা উচিত নয়। তারা যুক্তি দেন, ব্যানারটি দেখেই তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়েছেন, কারণ তারা মনে করেন এমন প্রকাশনা শোকের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে।

অন্যদিকে, বিএনপি স্থানীয় সংগঠনগুলো ব্যানারটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রকাশের অংশ বলে দাবি করে, এবং উল্লেখ করে যে শোকের সময়েও রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করা উচিত। তবে তারা এনসিপি দলের ব্যানার অপসারণের পদ্ধতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে সমালোচনা করেছে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, দুই দলের মধ্যে এই ধরনের সংঘর্ষ আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের মতো জাতীয় স্মরণীয় দিনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকাশ পেলে, জনমত গঠন ও ভোটার আচরণে প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, তবে তৎকালীন কোনো হস্তক্ষেপের রেকর্ড নেই। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে, কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশের সময় শোকের স্থানগুলোর ব্যবহারে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন।

সংক্ষেপে, শহীদ মিনারে এনসিপি দলের নেতাদের ব্যানার ও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রবেশ, ব্যানার দেখেই ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান, এবং ব্যানার অপসারণের ঘটনা দুই বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন এক উত্তেজনা যোগ করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনী সময়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments