গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) নির্বাচনী এলাকায় শুক্রবার বিকেলে বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে মন্ত্রণালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও অপব্যয় রোধের প্রতিশ্রুতি জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হবে যে কোনো ধরণের দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ব্যয় না ঘটতে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর, তিনি স্থানীয় নাগরিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কুমিল্লা-৮ এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এই সাক্ষাৎকারের সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা শেয়ার করেন।
পূর্বে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমি বরাদ্দ ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, এমন অভিযোগের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন, অতীত সরকার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর মতে, প্রধানমন্ত্রী সরকারের কিছু কাজ হ্রাস করে মন্ত্রণালয়ের কাজের চাপ কমিয়েছেন, যার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যখন তিনি হাউজের লিডার অফ দ্য হাউজ নির্বাচিত হন, তখনই সরকারী জমি বা শুল্কমুক্ত গাড়ি গ্রহণ না করার ঘোষণা দেন, যা তাকে কাজের তদারকি থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে।
বরুড়া উপজেলার বিএনপি কার্যালয়ে মন্ত্রীর স্বাগতকে ফুলের ঝুড়ি ও উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। স্থানীয় নেতারা মন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রি দপ্তরে বর্তমানে স্থবির থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের বড় প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, জাকারিয়া তাহের সুমন জানান, সরকারে দু’দিনই কেটেছে, তাই এখন প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য মূল্যায়ন করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধে কঠোর মনোভাব বজায় থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরুড়া থানা ২৪ মার্চ ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রায় আট দশক পর জাকারিয়া তাহের সুমন এই আসন থেকে প্রথম মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার বিএনপি সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন।
একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক উত্থান স্থানীয় জনগণের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে। বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উল্লাসের পরিবেশ দেখা যায়, যেখানে মানুষ তার জয়কে গর্বের সঙ্গে উদযাপন করছে।
মন্ত্রীর নির্বাচনী বিজয়কে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে অর্জন করা হয়েছে, যেখানে তিনি জামায়াতের প্রার্থীকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যে পরাজিত করে জয়লাভ করেন। এই ফলাফল তাকে স্থানীয় রাজনৈতিক দৃশ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রাখে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ও তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে, অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রতুল প্রকল্পগুলোকে পুনর্বিবেচনা করে সম্পদ সাশ্রয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।
মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, দুর্নীতি মোকাবেলা ও আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি সরকারী কাজের গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকরী তদারকি ব্যবস্থা ও স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হবে।
সামগ্রিকভাবে, জাকারিয়া তাহের সুমনের এই প্রতিশ্রুতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নির্দেশ করে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে মন্ত্রিপরিষদ কীভাবে এই নীতি বাস্তবায়ন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



