ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক আক্রমণ করার কথা বিবেচনা করছেন, যা পারমাণবিক প্রোগ্রাম সীমাবদ্ধ করার চুক্তি চূড়ান্ত করতে চাপ সৃষ্টি করবে। এই মন্তব্যটি সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে করা হয়, এবং ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে আগামী ১০ দিনের মধ্যে চুক্তি হবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা স্পষ্ট হবে।
মার্কিন সরকার এবং ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ইরান সরকারকে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার সন্দেহ প্রকাশ করেছে, যদিও ইরান সরকার এই অভিযোগকে অস্বীকার করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি অঞ্চলে বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান সরকার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে আলোচনার জন্য মিলিত হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করছে এবং তা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে কয়েক দিনের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
একই সময়ে জেনেভা আলোচনার পটভূমিতে মার্কিন নৌবাহিনীর বড় জাহাজগুলো ইরানের নিকটবর্তী জলে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার সংকেত দিয়েছে।
ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার জাহাজও একই সময়ে অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে, সঙ্গে ধ্বংসকেন্দ্র, যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানও যুক্ত হয়েছে। এই সামরিক উপস্থিতি ইরানের সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে ইরান তার সামরিক ঘাঁটি ও বেসগুলোকে শক্তিশালী করেছে, এবং দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়েছেন। তিনি পোস্টে লিখেছেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই, যুদ্ধজাহাজ একটি বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিতভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন, কখনো ওভাল অফিসে, কখনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে। তবে তার মন্তব্য সবসময় নীতি বা কার্যকরী পদক্ষেপে রূপান্তরিত হয় না, এবং কখনো কখনো একে অপরের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হয়।
ট্রাম্প পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন, তবে ইরানের সামরিক শক্তিবৃদ্ধি এবং পারমাণবিক প্রোগ্রামের অগ্রগতি তাকে সীমিত আক্রমণ বিবেচনা করতে প্ররোচিত করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে পরবর্তী দশ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে মার্কিন সরকার সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
মার্কিন সরকার এই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শন দলকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা থামাতে চাপ বাড়াচ্ছে।
ইরান সরকার জোর দিয়ে বলছে যে তার পারমাণবিক প্রোগ্রাম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, এবং চুক্তি আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে যদি ট্রাম্পের সীমিত সামরিক হুমকি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলে তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, জেনেভা আলোচনার ফলাফল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার ভিত্তিতে মার্কিন সরকার আগামী দশ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ইরান সরকারও তার খসড়া চুক্তি স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করার সময়সূচি মেনে চলবে বলে জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই সময়ে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয়কে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়ানো যায় এবং পারমাণবিক অশান্তি কমে। বর্তমান পরিস্থিতি গ্লোবাল নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।



