অভিনেত্রী ভায়োলা ডেভিস এবং তার স্বামী জুলিয়াস টেনন পরিচালিত জু-ভি প্রোডাকশন, সেবাস্টিয়ান এ. জোন্সের আফ্রো-ফ্যান্টাসি গ্রাফিক নভেল ‘দ্য আনটেমড: এ সিনার্স প্রেয়ার’কে বড় পর্দায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পে হোমওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের সাইমন স্বার্ট ও অ্যান্ড্রু কোসবি যুক্ত হয়েছেন, এবং জোন্স নিজেই স্ক্রিপ্টের রূপরেখা তৈরি করে পরিচালনা করবেন।
গল্পটি ‘আসুন্ডা’ নামের কাল্পনিক জগতে স্থাপিত, যেখানে ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার’ নামের এক অচেনা নায়ক আইনহীন ওয়েস্টার্ন শহর ‘ওয়েসিস’‑এ ফিরে আসে। এক অশুভ চুক্তির শর্তে তাকে সাত দিনের মধ্যে তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করা সাতজনের আত্মা সংগ্রহ করতে হবে, নতুবা তার নিজের ভাগ্য নরকের সমান হবে। পথে সে নিওবে নামের এক অনাথ মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, যা তার প্রতিশোধের পথে নতুন মোড় এনে দেয়।
‘দ্য আনটেমড’ মূলত কমিক শপের সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পরিচিত না হলেও, সরাসরি ভক্তদের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৫ সাল থেকে আটটি ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন চালিয়ে মোট $৬৩১,৬০২ সংগ্রহ করা হয়েছে, যার সর্বশেষ রাউন্ডে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়। এই আর্থিক সমর্থন গ্রাফিক নভেলকে আন্তর্জাতিক কমিক কনভেনশনে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
গল্পের পটভূমি মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় ও আফ্রিকান ইতিহাসের মিশ্রণ, যেখানে জে.আর.আর. টলকিনের কাজের প্রভাব স্পষ্ট। জোন্সের কোম্পানি, যা ড্যারেল মে ও জোশুয়া কোজিনের সঙ্গে পরিচালিত, এই জগতে ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনামূলক দিক থেকে সমৃদ্ধি আনতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, তার লক্ষ্য হল একটি কবিতাময় ও সিনেমাটিক নাটক তৈরি করা, যেখানে প্রতিশোধের গল্পের সঙ্গে বৃহত্তর বিশ্বসংকটের থিম যুক্ত থাকবে।
প্রকল্পের ভিজ্যুয়াল স্টাইলের জন্য তিনি স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন ও কুরোসাওয়া চলচ্চিত্রের মহাকাব্যিক পরিবেশের তুলনা করেছেন, যা সুন্দর ও বিপজ্জনক ফ্যান্টাসি দৃশ্যপটের সঙ্গে মিলে যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি ‘দ্য আনটেমড’কে একটি অনন্য জঁর হিসেবে উপস্থাপন করবে, যেখানে পশ্চিমা ও পূর্বের সিনেমাটিক উপাদান একত্রিত হবে।
ভায়োলা ডেভিসের এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ তার এবং জোন্সের পূর্বের সংযোগের ফল। ২০১৭ সালে ডেভিস ‘নিওবে: শি ইজ লাইফ’ গ্রাফিক নভেলের জন্য প্রস্তাবনা লিখেছিলেন, যা জোন্সের মূল কাজের একটি অংশ। সেই সময়ের এই সহযোগিতা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হওয়ায় উভয়ের জন্যই তা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ডেভিস ও টেনন প্রকল্প সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন, সেবাস্টিয়ান জোন্সের গল্পের গভীরতা ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি তাদেরকে আকৃষ্ট করেছে, এবং দশ বছরের দীর্ঘ সময়ের পর এই বর্ণনাকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। তারা উল্লেখ করেছেন, এই রূপান্তরটি শুধু একটি ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার নয়, বরং মানবিক ন্যায়বিচার ও মুক্তির অনুসন্ধানও বয়ে আনবে।
‘দ্য আনটেমড’ চলচ্চিত্রের প্রযোজনা সংক্রান্ত তথ্য এখনও সীমিত, তবে জোন্সের স্ক্রিপ্ট রচনা ও পরিচালনা কাজের অগ্রগতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। জু-ভি প্রোডাকশন এবং হোমওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের সহযোগিতায়, চলচ্চিত্রের শুটিং লোকেশন, কাস্টিং ও পোস্ট-প্রোডাকশনের পরিকল্পনা শীঘ্রই প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে আফ্রো-ফ্যান্টাসি জঁরকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্য স্পষ্ট। জোন্সের মতে, আফ্রিকান ঐতিহ্য ও ইউরোপীয় মধ্যযুগীয় উপাদানের সমন্বয় একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে, যা বিশ্বব্যাপী দর্শকদের আকৃষ্ট করবে। একই সঙ্গে, ডেভিসের উপস্থিতি চলচ্চিত্রের শিল্পগত মান ও বাজারযোগ্যতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘দ্য আনটেমড’ এখনো প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে থাকলেও, ইতিমধ্যে ভক্ত ও শিল্প সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইনের সফলতা এবং কমিক কনভেনশনে গৃহীত প্রশংসা এই প্রকল্পের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে।
চূড়ান্ত রিলিজের তারিখ ও বিতরণ চ্যানেল এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় প্রোডাকশন হাউসের অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্কের ভিত্তিতে, চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং প্রধান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হতে পারে। এই রূপান্তরটি গ্রাফিক নভেলকে নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি, আফ্রিকান-প্রেরিত ফ্যান্টাসি জঁরকে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেবে।
সারসংক্ষেপে, ভায়োলা ডেভিসের জু-ভি প্রোডাকশন এবং হোমওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের যৌথ উদ্যোগে ‘দ্য আনটেমড’ গ্রাফিক নভেলকে চলচ্চিত্রে রূপান্তর করা হচ্ছে, যেখানে সেবাস্টিয়ান জোন্স স্ক্রিপ্ট রচনা ও পরিচালনা করবেন, এবং গল্পের মূল থিম হল প্রতিশোধ, মুক্তি ও মানবিক ন্যায়বিচার। এই প্রকল্পটি আফ্রো-ফ্যান্টাসি জঁরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে একটি অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।



