অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্টি-হিরো থ্রিলার ‘হাউ টু মেক এ কিলিং’‑এ জেসিকা হেনউইক রুথ নামের এক চরিত্রে অভিনয় করছেন। রুথ পূর্বে ফ্যাশন জগতে উঁচুতে উঠলেও এখন ইংরেজি সাহিত্য শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করছেন। ছবিটি A24 স্টুডিওর প্রযোজিত এবং জন প্যাটন ফোর্ডের ‘এমিলি দ্য ক্রিমিনাল’‑এর ধারাবাহিক হিসেবে পরিচিত।
রুথের প্রেমিক নোয়া রেডফেলো, যিনি এক উচ্চাভিলাষী ফটোগ্রাফার, তার সঙ্গে সম্পর্ক ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগিয়ে যায়। নোয়ার দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া চাচা বেকেট (গ্লেন পাওয়েল) তার সামনে হাজির হন, যিনি রেডফেলো পরিবারের সাতজন সদস্যের উপর $২৮ বিলিয়ন উত্তরাধিকার দাবি করছেন। বেকেটের লক্ষ্য হল তার অস্বাভাবিক জন্মের কারণে বাদ পড়া সম্পদ পুনরুদ্ধার করা।
বেকেটের পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে নোয়া বোর্ড থেকে সরিয়ে ফেলতে হয়, ফলে রুথ ও বেকেটের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে আকর্ষণ ও রসায়ন গড়ে ওঠে। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা এই সংযোগ ছবির মূল টানাপোড়েনের একটি অংশ। রুথের চরিত্রের মাধ্যমে বেকেটের সম্পদপ্রাপ্তির তীব্রতা এবং রুথের সরল জীবনের আকাঙ্ক্ষা একে অপরের বিপরীতে দাঁড়ায়।
রুথের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় যে, সম্পদ অনুসরণ করা সবসময় সুখের গ্যারান্টি নয়। তিনি বেকেটকে যুক্তি দেন যে, সীমিত আরামদায়ক জীবনও তৃপ্তি দিতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মিডিয়ায় জনপ্রিয় ‘স্লো লাইফ’ প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হেনউইক নিজেও একই প্রশ্নের মুখোমুখি। তিনি দীর্ঘ সময় ‘ড্রিম বিগ’ মানসিকতা অনুসরণ করে সফলতা অর্জন করেছেন, তবে এখন তিনি ভাবছেন অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়া তিনি কি আরও সুখী হতে পারতেন। তিনি স্বীকার করেন যে, সরল জীবনের সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করা যায় না এবং এটাই রুথের কথার মূল সত্তা।
‘স্লো লাইফ’ ভিডিওগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন ছোটখাটো আনন্দের মুহূর্তগুলোকে তুলে ধরা হয়, যা হেনউইককে আকৃষ্ট করে। তিনি বলেন, এই ধরনের কন্টেন্ট বর্তমান সময়ে মানুষের মনোভাবের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। রুথের চরিত্রের মাধ্যমে তিনি এই প্রবণতাকে চলচ্চিত্রে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন।
অভিনয় ছাড়াও হেনউইক তার ক্যারিয়ারে নতুন দিক যোগ করছেন। তিনি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিচালনা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা ‘হাউ টু মেক এ কিলিং’‑এর পাশাপাশি তার সৃজনশীল পরিসরকে বিস্তৃত করবে। এই পদক্ষেপটি তার শিল্পী হিসেবে বহুমুখিতা প্রকাশ করে।
হেনউইক ২০২২ সালে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অংশগ্রহণের পর এখন আবার বড় স্ক্রিনে ফিরে এসেছেন। তার পূর্বের কাজগুলোতে তিনি অ্যাকশন ও নাটকীয় চরিত্রে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন, যা এই নতুন ছবিতে তার পারফরম্যান্সকে সমৃদ্ধ করবে।
‘হাউ টু মেক এ কিলিং’ ছবির গল্পে পরিবারিক সম্পদের লড়াই, প্রেমের জটিলতা এবং জীবনের সরলতার সন্ধান একত্রে মিশে আছে। রুথ ও বেকেটের সম্পর্কের বিকাশ ছবির মূল আকর্ষণ হিসেবে কাজ করবে।
ফিল্মের নির্মাণে A24 স্টুডিওর স্বতন্ত্র শৈলী এবং জন প্যাটন ফোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি পূর্বের ‘এমিলি দ্য ক্রিমিনাল’‑এর মতোই সামাজিক সমস্যাকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরতে চান।
হেনউইকের মন্তব্যে দেখা যায় যে, তিনি এখনো ‘ড্রিম বিগ’ মানসিকতা থেকে পুরোপুরি সরে যাননি, তবে তার দৃষ্টিভঙ্গি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, স্বপ্নের পেছনে ছুটে যাওয়া এবং বর্তমানের মুহূর্ত উপভোগ করা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
চলচ্চিত্রটি দর্শকদেরকে সম্পদ, ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির মধ্যে সমতা খুঁজে বের করার আহ্বান জানাবে। রুথের চরিত্রের মাধ্যমে হেনউইক এই বিষয়গুলোকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করছেন।
‘হাউ টু মেক এ কিলিং’ শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে এবং হেনউইকের অভিনয় ও পরিচালনা উভয়ই সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চলচ্চিত্রটি আধুনিক সমাজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সরল জীবনের দ্বন্দ্বকে নতুন দৃষ্টিতে উপস্থাপন করবে।



