ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দুইজন কলেজ শিক্ষার্থী ঘুরতে গিয়ে কিশোর বয়সের ছিনতাইকারী দলের আক্রমণের শিকার হন। একজন ছাত্র পালিয়ে যাওয়ার পর অন্যজন দুই দিন নিখোঁজ থাকেন, আর শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত ১১ টার কাছাকাছি তার মৃতদেহ নদীর ধারে পাওয়া যায়।
গবেষণায় জানা যায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নুরুল্লাহ শাওন (২৬) ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্রের বিপরীত তীরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাতজনেরও বেশি কিশোরের একটি দল তাদের ঘিরে ফেলে, জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতে এবং টাকা না থাকলে শারীরিক হিংসা দেখাতে বাধ্য করে।
শাওন যখন তাদের দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, তখন দলটি তাকে মারধর করে। মঞ্জুরুল তৎক্ষণাৎ নদীতে ঝাঁপিয়ে পার হতে চেষ্টা করেন, তবে শাওনের whereabouts অজানা থাকে। মঞ্জুরুল নদী পার হয়ে নিরাপদে ফিরে আসেন, কিন্তু শাওনের সন্ধান কোনোভাবে মিলেনি।
মঞ্জুরুল ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্ধুদের জানিয়ে দেন, ফলে দলটির ১৫ বছর বয়সী এক সদস্যকে থানা-প্রহরীরা গ্রেফতার করে সোপর্দ করা হয়। একই দিন, ব্রহ্মপুত্রের তীরে শাওনের জুতা ও ব্যাগ পাওয়া যায়, যা অনুসন্ধানকে ত্বরান্বিত করে।
শুক্রবার রাত প্রায় ১১ টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদীর ধারে একটি দেহ পেয়ে পুলিশকে জানান। পুলিশ দ্রুত দেহটি উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে নিয়ে যায়, যেখানে মৃতদেহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফল থেকে শাওনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়; তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রাম থেকে, রফিকুল ইসলামের পুত্র। শাওন আনন্দ মোহন কলেজে রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়তেন এবং তার শিক্ষাজীবন ও পরিবারে গভীর শোক ছড়িয়ে পড়েছে।
শাওনের সহপাঠী ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ঢেউ তীব্র, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। শোয়াইব আক্তারসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র গ্রুপ দ্রুতই গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার দাবি করে, পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।
পুলিশ ইতিমধ্যে ছিনতাইকারী দলের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মৃতদেহের ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সাক্ষী বিবরণ এবং ভিডিও রেকর্ডের ভিত্তিতে অপরাধের প্রকৃতি ও দায়িত্বশীলদের পরিচয় নির্ধারণ করা হবে।
ময়মনসিংহ পুলিশ বিভাগ স্থানীয় এলাকায় ছিনতাই ও হিংসা সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে এবং নাগরিকদের নিরাপদে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
শাওনের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দাবি করছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।



