নিউ ইয়র্কের ১২তম কংগ্রেসীয় জেলা নির্বাচনে আলেক্স বোরেসের প্রচারণা সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের আর্থিক সমর্থন পেয়েছে। অ্যানথ্রপিকের $২০ মিলিয়ন দান থেকে গঠিত পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন নামে একটি পিএসি, বোরেসের ক্যাম্পেইনে $৪৫০,০০০ ব্যয় করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি গত বছর বোরেসের বিরুদ্ধে চালু করা শিল্প-সমর্থিত সুপার পিএসির আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বোরেস, নিউ ইয়র্ক অ্যাসেম্বলি সদস্য, গত বছরের শেষের দিকে প্রো-এআই সুপার পিএসি “লিডিং দ্য ফিউচার”এর লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন। লিডিং দ্য ফিউচার, অ্যান্ড্রেসেন হোরোউইটজ, ওপেনএআই প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, এআই সার্চ স্টার্টআপ পারপ্লেক্সিটি এবং প্যালান্টির সহ-প্রতিষ্ঠাতা জো লন্সডেলসহ বহু বড় বিনিয়োগকারীর সমর্থনে $১০০ মিলিয়নের বেশি তহবিল পরিচালনা করে।
লিডিং দ্য ফিউচার বোরেসের উপর $১.১ মিলিয়ন মূল্যের বিজ্ঞাপন চালিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। এই আক্রমণের মূল কারণ ছিল বোরেসের নিউ ইয়র্কের “RAISE” আইনকে সমর্থন করা, যা বড় এআই ডেভেলপারদের নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রকাশ এবং সিস্টেমের গুরুতর অপব্যবহার রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।
বোরেসের প্রতিক্রিয়া ছিল সরল: “চ্যালেঞ্জ স্বাগত”। তিনি এই আক্রমণকে তার নীতি-প্রয়োগের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন এবং নিজের প্রচারণাকে আরও দৃঢ় করার সংকল্প প্রকাশ করেন। এই প্রেক্ষাপটে পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন তার আর্থিক সহায়তা দিয়ে বোরেসের অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়।
পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন অ্যানথ্রপিকের $২০ মিলিয়ন দান থেকে গঠিত এবং এআই নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেয়। পিএসিটি বোরেসের প্রচারণায় $৪৫০,০০০ ব্যয় করে, যা মূলত টেলিভিশন ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার নীতি-দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করবে। এই তহবিলের ব্যবহার বোরেসের ভোটারদের কাছে এআই শিল্পের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং জনতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব তুলে ধরতে লক্ষ্য করে।
লিডিং দ্য ফিউচার এবং পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন উভয়ই এআই শিল্পের সমর্থক হলেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। লিডিং দ্য ফিউচার শিল্পের স্বার্থ রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়। অন্যদিকে পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং জনতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানকে মূল নীতি হিসেবে তুলে ধরে, যা বোরেসের “RAISE” আইনকে সমর্থন করার পেছনের মূল যুক্তি।
বোরেসের “RAISE” আইন নিউ ইয়র্কের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই আইনটি বড় এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রকাশ এবং সিস্টেমের অপব্যবহার ঘটলে তা রিপোর্ট করতে বাধ্য করে। শিল্প-সমর্থিত পিএসিগুলো এই আইনের বিরোধিতা করে, কারণ তারা এটিকে উদ্ভাবনের বাধা হিসেবে দেখছে।
অ্যানথ্রপিকের সমর্থন বোরেসের জন্য কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং এআই নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার পক্ষে একটি রাজনৈতিক মঞ্চও প্রদান করে। পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন বোরেসের প্রচারণায় এই থিমগুলোকে কেন্দ্রীয় করে তুলে ধরবে, যা ভোটারদের মধ্যে এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে।
নিউ ইয়র্কের ১২তম জেলা একটি বৈচিত্র্যময় এলাকা, যেখানে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা এবং ছোট ব্যবসার মিশ্রণ রয়েছে। বোরেসের এআই নীতি-দৃষ্টিভঙ্গি এই ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ তারা সরাসরি এআই প্রযুক্তির প্রভাবের মুখোমুখি। তাই পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশনের আর্থিক সহায়তা বোরেসের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বোরেসের প্রতিপক্ষ, লিডিং দ্য ফিউচার, ইতিমধ্যে $১.১ মিলিয়ন বিজ্ঞাপন চালিয়ে তার নীতি-দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই বিজ্ঞাপনগুলো প্রধানত বোরেসের এআই নিরাপত্তা আইনকে বাধা হিসেবে উপস্থাপন করে, যা শিল্পের স্বার্থের বিরোধী হিসেবে চিত্রায়িত করে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে উভয় পিএসির আর্থিক ও কৌশলগত চালনা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশনের $৪৫০,০০০ ব্যয় বোরেসের প্রচারণাকে নতুন মাত্রা দেবে, যেখানে তিনি স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা মানদণ্ডকে কেন্দ্র করে তার বার্তা পৌঁছে দিতে পারবে। একই সঙ্গে লিডিং দ্য ফিউচার তার আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন চালিয়ে বোরেসের সমর্থন ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা করবে।
এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফলাফল নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসীয় প্রতিনিধিত্বে এআই নীতি-দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি বোরেস জয়লাভ করেন, তার “RAISE” আইন এবং এআই নিরাপত্তা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি ফেডারেল স্তরে বিস্তৃত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি লিডিং দ্য ফিউচারের সমর্থিত প্রতিপক্ষ জয়ী হন, তবে শিল্পের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া নীতি-দিকনির্দেশনা শক্তিশালী হতে পারে।
বর্তমানে বোরেসের ক্যাম্পেইন দল অ্যানথ্রপিকের সমর্থনকে ব্যবহার করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং এআই নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা ভোটারদের প্রতিক্রিয়া এবং আর্থিক ব্যয়ের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।



