বেরলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিটের দৈর্ঘ্যের ‘Yo (Love Is a Rebellious Bird)’ ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিটি অ্যানা ফিচের পরিচালনায় এবং ব্যাংকার হোয়াইটের সহ-পরিচালনা ও সম্পাদনায় তৈরি, যেখানে সুইস-ইমিগ্রান্ট ইয়োলান্ডা “ইয়ো” শিয়ার জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। ইয়ো ১৯২০-এর দশকে জন্মগ্রহণ করেন, স্বতন্ত্র স্বভাবের অধিকারী এবং অ্যানার সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধন তার শেষ দিন পর্যন্ত অবিচল ছিল।
ডকুমেন্টারিটি বিভিন্ন সৃজনশীল উপাদান ব্যবহার করে—পাপেট্রি, কোলাজ, প্রায় অ্যানিমেটেড স্টিল ফটো এবং ইয়োর জীবদ্দশায় তোলা স্বাভাবিক ফিল্ম ফুটেজ—যা গল্পকে দৃশ্যমানভাবে সমৃদ্ধ করে। যদিও ছবির কিছু অংশে শোকের ছোঁয়া আছে, সামগ্রিকভাবে এটি উচ্ছ্বাসে ভরা এবং যত্নসহকারে নির্মিত একটি কাজ হিসেবে চিহ্নিত। অ্যানা ও ব্যাংকারের উপস্থিতি ক্যামেরার সামনে দেখা যায়, তবে তা কখনোই স্বকীয়তা বাড়িয়ে না দিয়ে মূল চরিত্র ইয়োর ওপরই মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখে।
অ্যানা ফিচের বয়স এখন চৌব্বিশের শেষের দিকে, আর ইয়ো তার দশকের শেষের দিকে ছিলেন; তবু দুইজনের মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। উভয়ই একা সন্তান, উভয়ই শিল্পী, যদিও অ্যানা প্রথমে কীটপতঙ্গবিদ্যা অধ্যয়ন করেন এবং তার পূর্বের প্রকৃতি-ডকুমেন্টারিগুলোতে পোকামাকড়ের বিশেষ ভূমিকা থাকে। দুজনেই ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসের আগে অন্য রাজ্য থেকে এসেছিলেন, দুজনেই মা, এবং উভয়েরই ঢেউখেলানো চুলের ভরাট মাথা রয়েছে। এই সমান্তরালগুলো ছবিতে শিশুর দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে, যা দর্শকের কাছে স্বচ্ছন্দ ও সরলভাবে উপস্থাপিত হয়।
চিত্রনাট্যটি জীবনের ছোটখাটো ও বড় মুহূর্তগুলোকে একসাথে বুনে, যেন একটি শিশুর চোখে পৃথিবী দেখার মতো। পাপেট্রির মাধ্যমে গল্পের কিছু অংশে হালকা রঙের ছোঁয়া যোগ করা হয়েছে, আর কোলাজের ব্যবহার অতীতের স্মৃতিগুলোকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়। ছবির সঙ্গীত ও ভয়েসওভার অ্যানার নিজস্ব কণ্ঠে, যা দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। ছবির কাঠামোতে কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না দিয়ে, মূল বিষয়—ইয়োর স্বাধীন আত্মা ও তার বন্ধুত্বের গভীরতা—কে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
‘Yo (Love Is a Rebellious Bird)’ ডকুমেন্টারিটি কেবল একটি জীবনীমূলক কাজ নয়; এটি বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা এবং জীবনের প্রতি উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গির উদযাপন। ছবির শেষে দেখা যায় যে, শোকের পরেও জীবনের উজ্জ্বল দিকগুলোকে আলিঙ্গন করা সম্ভব, যা দর্শকদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এই কাজটি বিশেষ করে এমন দর্শকদের জন্য উপযোগী, যারা শিল্পের মাধ্যমে মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা অন্বেষণ করতে চান।
বেরলিনের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছবির অংশগ্রহণ, অ্যানা ফিচের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ইয়ো শিয়ার স্মৃতিকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি দেবে। ছবিটি ভবিষ্যতে অন্যান্য চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হতে পারে, যা আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছাবে। শেষ পর্যন্ত, এই ডকুমেন্টারিটি দেখার পর দর্শকদেরকে নিজের জীবনের ছোটখাটো মুহূর্তগুলোকে মূল্যায়ন করতে এবং প্রিয়জনের সঙ্গে গড়ে তোলা বন্ধুত্বকে রক্ষা করতে উৎসাহিত করা যায়।
যদি আপনি শিল্প, ইতিহাস এবং মানবিক সম্পর্কের সংমিশ্রণ উপভোগ করেন, তবে ‘Yo (Love Is a Rebellious Bird)’ আপনার জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে। ছবিটি দেখার পর, নিজের জীবনের সৃজনশীল দিকগুলোকে পুনরায় চিন্তা করা এবং বন্ধুত্বের মূল্যকে পুনর্বিবেচনা করা একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে।



