21.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় পার্টির নেতাকর্মী শ্রীহীদ মিনারে বাধার মুখে, ফুল ও ব্যানার নেয়া হল

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী শ্রীহীদ মিনারে বাধার মুখে, ফুল ও ব্যানার নেয়া হল

শুক্রবার রাত প্রায় ২ টায় শ্রীহীদ মিনারে জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন। একই সময়ে বিএনপি মহানগর ইউনিটের সদস্যরা “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান চিৎকার করে তাদের হাতে থাকা ফুলের তোড়া ও ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। ফলে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিরা কোনো সমাবেশ না করে তৎক্ষণাৎ স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সাক্ষী সাংবাদিকদের মতে, এনসিপি ইউনিটের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফুলের তোড়া হাতে শ্রীহীদ মিনারে প্রবেশের পরই বিএনপি দলের সদস্যরা পেছন থেকে হস্তক্ষেপ করে। তারা একে একে ব্যানার ও ফুলের তোড়া তুলে নেয় এবং “ভুয়া ভুয়া” চিৎকার করে প্রতিবাদ জানায়। এই ঘটনার সময় কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়নি, ফলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।

বিএনপি ইউনিটের অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, শ্রীহীদ মিনার জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ এবং তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে এখানে প্রোথিত করতে চান না। তারা জাতীয় পার্টির ব্যানারকে “ফ্যাসিস্টের দোসর” বলে অভিহিত করে এবং তাদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। এই রকম মন্তব্যের পটভূমিতে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির প্রতি বাড়তি বিরোধিতা এবং অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জানান, তারা শ্রীহীদ মিনারে সম্মানসূচক সমাবেশের জন্য আসেনি, বরং শ্রীহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চেয়েছিলেন। তবে বিএনপি দলের চিৎকার ও ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার ফলে তারা কোনো সমাবেশ সম্পন্ন করতে পারেনি এবং বাধ্য হয়ে তৎক্ষণাৎ স্থান ত্যাগ করতে হয়েছে। তারা এই ঘটনার প্রতি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করে।

চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর থেকে জাতীয় পার্টি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক বাধার মুখে রয়েছে। সরকারী পরিবর্তনের পর দলটি অবৈধ কার্যক্রমের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে একাধিকবার হামলা এবং অগ্নিকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত। এসব ঘটনার ফলে দলটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক মঞ্চে তার উপস্থিতি কমে গেছে।

বৈরী পরিবেশের মধ্যে জাতীয় পার্টি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছিল, তবে কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। পূর্বে দলটি নির্বাচনী মঞ্চে অংশ নিতে পারলেও ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন সংগ্রহে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। এই ফলাফল দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল এবং সংগঠনের পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।

শ্রীহীদ মিনারে ঘটিত এই সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু মানুষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং রাজনৈতিক হিংসার দিকে ইঙ্গিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে কিছু সমর্থক বিএনপি দলের পদক্ষেপকে সঠিক বলে স্বীকার করেছে। তবে অধিকাংশ পর্যবেক্ষক একমত যে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জনসাধারণের পবিত্র স্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই ঘটনার ফলে জাতীয় পার্টি তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানকে কীভাবে চালিয়ে যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। যদি নিরাপত্তা ও সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হয়, তবে দলটি ভোটারদের কাছে তার বার্তা পৌঁছাতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। পাশাপাশি, আইনগত পদক্ষেপ বা পুলিশের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য বা তদন্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments