21.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্ডিয়া চুক্তি চালু রাখার ইঙ্গিত, সব বাণিজ্য চুক্তি নতুন পদ্ধতিতে

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্ডিয়া চুক্তি চালু রাখার ইঙ্গিত, সব বাণিজ্য চুক্তি নতুন পদ্ধতিতে

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার প্রেসব্রিফিংয়ে জানিয়ে দেন, তার ট্যারিফের হুমকি দিয়ে আলোচিত বেশিরভাগ বাণিজ্য চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় চুক্তি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, “ইন্ডিয়া চুক্তি চালু আছে” এবং পূর্বে বাতিল হওয়া ট্যারিফের পরিবর্তে অন্য আইনগত ভিত্তিতে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। রায়ে উল্লেখ করা হয়নি যে ট্যারিফের মাধ্যমে সংগৃহীত $133 বিলিয়ন রিফান্ড করা হবে কিনা, ফলে এই আর্থিক বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ট্রাম্পের মতে, এই বিষয়টি আদালতে পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ট্যারিফের আইনি চ্যালেঞ্জ সমাধানে বছর লাগতে পারে, তবে চুক্তিগুলোকে রদ করা হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সব চুক্তি – আমরা শুধু ভিন্নভাবে করব” এবং ট্যারিফের পরিবর্তে অন্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাণিজ্যিক শর্তাবলী বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ইন্ডিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারতীয় ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের আশ্বাস দিতে পারে। তবে মার্কিন কংগ্রেস ও বাণিজ্য নীতি বিশেষজ্ঞরা রায়ের প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, কারণ রায়ের ভিত্তিতে ট্যারিফের বৈধতা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে ট্রাম্প ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যা সব আমদানি পণ্যের উপর প্রযোজ্য হবে। এই পদক্ষেপটি তার স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক নীতি, যা রায়ে অবৈধ ঘোষিত হয়েছিল, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে আমেরিকান ভোক্তা ও ব্যবসায়িক খরচে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হতে পারে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কেও চাপ বাড়বে, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর মার্কিন কংগ্রেসে ট্যারিফ নীতি নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। কিছু আইনপ্রণেতা রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ট্যারিফের পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে কিছু দল ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে।

ইন্ডিয়া সরকারও ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতি ইতিবাচক সাড়া জানিয়েছে, যদিও চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তাবলী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দু’দেশের বাণিজ্যিক সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষই নতুন শুল্ক কাঠামোর দিকে নজর দিচ্ছে।

ট্যারিফের রিফান্ড সংক্রান্ত আইনি বিষয়টি এখনও অনির্ধারিত, এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্পের মতে, আদালতে এই বিষয়টি পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে পারে, যা বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াই বাণিজ্যিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে এবং আমদানি-রপ্তানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে $133 বিলিয়ন ট্যারিফের রিফান্ডের প্রশ্নে উভয় পক্ষই স্পষ্টতা চাইছে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও রায়ের পরিণতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিশদে আলোচনা করছে। কিছু বিশ্লেষক রায়কে মার্কিন বাণিজ্য নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কিছু রায়কে ট্রাম্পের স্বতন্ত্র নীতি চালিয়ে যাওয়ার বাধা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের ইন্ডিয়া চুক্তি চালু রাখার ইঙ্গিত ও শুল্কের নতুন পরিকল্পনা বাণিজ্যিক নীতিতে পরিবর্তনের সূচক হতে পারে। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আইনি প্রভাব, রিফান্ডের বিষয় এবং কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments