21.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাশাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএমই বিভাগে অনুপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএমই বিভাগে অনুপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ও খনি প্রকৌশল‑পিএমই বিভাগে যোগ্যতা মানদণ্ড না মেনে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ১৬ দিন ধারাবাহিকভাবে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক তাজবিউল ইসলামের পদ বাতিলের দাবি জানিয়ে, না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

তাজবিউল ইসলাম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি‑শিবপুর থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার স্নাতক স্তরের সিজিপিও ৭.৩৫, যা বাংলাদেশে প্রচলিত সিজিপিএ ৪ পদ্ধতিতে রূপান্তর করলে ৩.২১ হয়। পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয়ের জন্য ন্যূনতম ৩.৫০ সিজিপিএ প্রয়োজন ছিল। তাজবিউলের সিজিপিএ এই শর্ত পূরণ না করলেও তাকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড প্রদান করা হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, তাজবিউল ২০২৪ সালের জুন মাসে শিক্ষক পদে নিয়োগ পত্র পেয়েছেন। তবে শিক্ষার্থী-শিক্ষক উভয়ের প্রতিবাদে তিনি ক্লাসে পাঠদান শুরু করতে পারেননি, তবু তিনি নিয়োগের পর থেকে বেতন ও ভাতা গ্রহণ করছেন।

এই বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয় ৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করে তাজবিউলের নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ পায় এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করে।

তবে তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ২৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাজবিউলের বেতন বন্ধ ও চাকরিচ্যুতি সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনার জন্য আইন উপদেষ্টার মতামত চাওয়া হয়। তবু উপদেষ্টা তাজউদ্দিন উল্লেখ করেন, “মতামত চাওয়া হয়েছে কিনা বা আমি দিয়েছি কিনা, ফাইল না দেখলে বলা কঠিন।” তিনি ফাইল পর্যালোচনা না করে কোনো মন্তব্য দিতে অস্বীকার করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই অপ্রতিক্রিয়ার ফলে তাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, যদি তাজবিউলের নিয়োগ বাতিল না করা হয় তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তাজবিউল এক বছর ও ছয় মাসের দেরি সত্ত্বেও চাকরিতে যোগদানে বাধা পেয়ে ২৫ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট (রিট অর্ডার) দায়ের করেন। রিটের কপি নিয়ে তিনি ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হন এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার অনিশ্চিত অবস্থান এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশের অমীমাংসিত অবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে। শিক্ষার্থীরা এখনো ক্লাসে ফিরে আসার কোনো স্পষ্ট সময়সূচি জানে না এবং তাদের দাবির সমর্থনে বিভিন্ন ধরণের প্রতিবাদ পরিকল্পনা করছে।

শিক্ষা নীতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় শাসনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে শিক্ষার পরিবেশ স্থিতিশীল থাকে।

আপনি যদি শিক্ষার্থী হন এবং এমন কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা লক্ষ্য করেন, তবে আপনার অধিকার জানুন, ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করুন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ উত্থাপন করুন। এভাবে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments