প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরকে সাম্প্রতিক পুলিশ তদন্তে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের অভ্যন্তরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অ্যান্ড্রু ও তার বড় ভাই, রাজা চার্লস তৃতীয়ের মধ্যে সম্পর্কের পরিবর্তন এই ঘটনার পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গ্রেফতারটি প্রিন্সের জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে পূর্বের সংযোগের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যদিও অ্যান্ড্রু এখনও কোনো অপরাধ স্বীকার করেননি।
রাজা চার্লস গ্রেফতারের পর প্রকাশ্যভাবে পরিবারের সম্পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা জানিয়ে বলেন, আইনকে সকলের ওপর সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, বিচার প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলতে হবে এবং কোনো র্যাঙ্ক বা মর্যাদা বিচারকে প্রভাবিত করতে পারবে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের এবং রাজপরিবারের অবস্থানকে আইনগত ন্যায়বিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
অ্যান্ড্রু এই পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কোনো অবৈধ কাজের স্বীকারোক্তি দেননি এবং সবসময়ই নিজের নির্দোষতা দাবি করে আসছেন। তার এই অবস্থানকে ঘিরে জনমত বিভক্ত, তবে বর্তমান তদন্তের ফলাফলই শেষ কথা বলবে।
রাজা চার্লস গ্রেফতার পরেও জনসাধারণের সামনে উপস্থিতি বজায় রাখবেন বলে জানান। তিনি কোনো অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেবেন না এবং রাজকীয় দায়িত্বগুলো স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাবেন। এই সিদ্ধান্তটি পরিবারিক সংঘাতকে জনমুখে নিয়ে আসার ঝুঁকি কমাতে এবং রাজপরিবারের কাজকর্মে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
গত কয়েক মাসে চার্লস তার ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তিনি কখনো নরমভাবে প্রিন্সকে সমর্থন করার চেষ্টা করেছেন, আবার কখনো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেন একটি বিরক্ত পিতার মতো আচরণ করছেন। এই দ্বৈত পদ্ধতি পরিবারিক সমস্যাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে চেয়েছে।
প্রায় এক বছর ও অর্ধ বছর আগে, চার্লস রাজপ্রাসাদে অবস্থিত রয়্যাল লজ থেকে অ্যান্ড্রুকে সরিয়ে ফেলতে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। তিনি আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে প্রিন্সকে সেখানে থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টা এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে অভ্যন্তরীণ সূত্রে এটিকে “রয়্যাল লজের অবরোধ” বলা হয়।
অবশেষে অ্যান্ড্রু রয়্যাল লজ ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং তার বসবাসের ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হয়। এই ঘটনার পর থেকে তিনি আর ঐ ঐতিহ্যবাহী বাসভবনে ফিরে আসেননি, যা পরিবারিক সম্পর্কের গভীর বিচ্ছিন্নতা নির্দেশ করে।
এই ঘটনাগুলি ভবিষ্যতে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ গঠন ও জনসাধারণের ধারণায় প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যদি অ্যান্ড্রু দোষী প্রমাণিত হন, তবে তার রাজকীয় পদমর্যাদা ও সম্পদে সীমাবদ্ধতা আরোপিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে পরিবারের মধ্যে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা পুনরায় উন্মোচিত হতে পারে।
রাজা চার্লসের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট: তিনি আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলতে দেবেন এবং একই সঙ্গে রাজপরিবারের ঐতিহ্য ও দায়িত্ব বজায় রাখবেন। এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবারিক সংঘাতকে রাজনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে।



