শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী পুরাতন ঢাকার মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ী নেতাদের সমাবেশে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পবিত্র মাসে মূল্য বৃদ্ধি না হওয়া এবং খাদ্যপণ্যে কোনো ভেজাল না যুক্ত করা ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
কমিশনারের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রমজান মাসে মূল্য হেরফের ও গুণগত মানের অবনতি ভোক্তাদের আর্থিক চাপ বাড়াবে এবং সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই সকল ব্যবসায়ীকে সতর্কতা অবলম্বন করে ন্যায্য মূল্যে পণ্য সরবরাহের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যখন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজারে অভিযান চালাবেন, তখন ব্যবসায়িক সম্প্রদায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এই সহযোগিতা বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে সক্ষম করবে।
কমিশনার আরও নির্দেশ দেন যে, কোনো ধরনের মূল্য হেরফের বা গুণগত মানের অবনতি হলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে হবে। তদারকি ব্যবস্থা ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সমাবেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা পুনর্ব্যক্ত করে, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা কমিশনারের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, রমজান মাসে ভোক্তাদের সেবা করার জন্য মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিতি নিশ্চিত করেন যে, অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্ধারিত সময়ে বাজারে নজরদারি চালাবেন। তাদের লক্ষ্য হল অনিয়মিত দামের তালিকা ও গুণগত মানের লঙ্ঘন চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও সমাবেশে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি তথ্যের স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে, যা ভোক্তাদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক।
কমিশনারের এই উদ্যোগের ফলে রমজান মাসে বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়নি, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, সরকারি তদারকি ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা মূল্যের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তাই ব্যবসায়িক নেতাদের সঠিক স্টক ম্যানেজমেন্ট ও মূল্য নীতি অনুসরণ করা জরুরি। শেষ পর্যন্ত, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই আহ্বান ভোক্তাদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং বাজারে ন্যায্যতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



