ব্রাজিলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন নেইমার আগামী বছরের শেষের দিকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। দীর্ঘদিনের আঘাতের কারণে তার ক্যারিয়ার এখন অনিশ্চিত, তবে তিনি বিশ্বকাপের আগে মাঠে ফিরে আসতে চান। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক শারীরিক সমস্যাগুলো এবং দলের জন্য তার অবদান রাখার ইচ্ছা রয়েছে।
নেইমার জানুয়ারি ২০২৫-এ সৌদি আরবের আল-হিলাল থেকে তার প্রাথমিক ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন। বার্সেলোনা এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন দু’টি ইউরোপীয় দলে খেলা শেষে তিনি সান্তোসে পুনরায় যুক্ত হন। প্রথম মৌসুমে ধারাবাহিক আঘাতের পরেও তিনি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়ে নেন।
কিন্তু ডিসেম্বরের শেষের দিকে তার ডান হাঁটুর শল্যচিকিৎসা হওয়ায় তিনি জানুয়ারি মাসের ব্রাজিলীয় মৌসুমের শুরুতে মাঠে নামতে পারেননি। শল্যচিকিৎসার পর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় তার উপস্থিতি সীমিত ছিল। ফলে সান্তোসের শুরুর ম্যাচগুলোতে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
নেইমার নিজের কথায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। “এখন থেকে কী হবে, আগামী বছর কী হবে, আমি জানি না,” তিনি বলেন। “ডিসেম্বর এলে হয়তো অবসর নেওয়ার কথা ভাবতে পারি। আমি এখন বছর থেকে বছর বেঁচে যাচ্ছি।” এই মন্তব্যগুলো তার বর্তমান মানসিক অবস্থার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
ফেব্রুয়ারি ১৬ তারিখে সাও পাওলো চ্যাম্পিয়নশিপের একটি ম্যাচে তিনি দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিস্থাপন খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। তার ৩৪তম জন্মদিনের ১১ দিন পর এই প্রত্যাবর্তনটি ছিল তার জন্য বড় একটি মাইলফলক। ম্যাচে তিনি সীমিত সময়ের জন্য খেললেও তার উপস্থিতি দলের জন্য উত্সাহের উৎস হয়ে ওঠে।
প্রতিস্থাপন খেলোয়াড় হিসেবে ফিরে আসার পর নেইমার জানান, “আমি দলকে সর্বোচ্চভাবে সাহায্য করতে চেয়েছি, তবে পুরোপুরি ফিট না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে সামান্য সীমাবদ্ধ রাখতে হয়েছে,” তিনি বলেন। এই সতর্কতা তাকে পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরে আসতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশাবাদী। তার লক্ষ্য ছিল ১০০ শতাংশ পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে সমর্থন করা।
নেইমার ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ স্কোরার, তার গড়ে ৭৯ গোল রয়েছে, যা পেলে থেকে দুই গোল বেশি। তবে অক্টোবর ২০২৩-এ উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলা সময় তার গুরুতর হাঁটু আঘাতের পর থেকে তিনি জাতীয় দলে ফিরে আসেননি। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো অ্যানসেলোত্তি, যিনি গত মে থেকে দায়িত্বে আছেন, এখনও নেইমারকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করেননি। কোচের নির্বাচন নীতি এবং নেইমারের শারীরিক অবস্থা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নেইমার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসা এখনো অনিশ্চিত।
নেইমার বর্তমান বছরকে সান্তোস এবং ব্রাজিল উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। “এই বছর সান্তোসের জন্যই নয়, ব্রাজিলের জাতীয় দলে ও, বিশেষ করে বিশ্বকাপের বছর, আমার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ,” তিনি বলেন। তার জন্য এই বছরটি ব্যক্তিগত এবং দলীয় উভয় দিক থেকে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নেইমারকে কী ভূমিকা দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ধীরে ধীরে মাঠে বেশি সময় পেতে পারেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলতে থাকায় ব্রাজিলের দলও তার অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারে। তাই নােমারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত এবং শারীরিক অবস্থা দেশের ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে।



