চাদের চলচ্চিত্র নির্মাতা মাহামাত-সালেহ হারুনের নতুন কাজ “সৌমসৌম, দ্য নাইট অব দ্য স্টার্স” বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে বিশ্বপ্রদর্শনী পেয়েছে। চলচ্চিত্রটি ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের দৈর্ঘ্যের এবং আধুনিক কিশোর-কিশোরীর জীবনের গল্পকে আফ্রিকান লোককথা ও হরর উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে উপস্থাপন করে।
হারুনের পূর্বের কাজগুলো চাদের কঠিন বাস্তবতা ও সংঘাতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেমন “ড্রাই সিজন”, “এ স্ক্রিমিং ম্যান” (২০১১ সালে ক্যান্সের জুরি পুরস্কার জয়ী) এবং “গ্রিগ্রিস”। তিনি চাদের স্বৈরশাসক হিসেন হাব্রের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর ভিত্তি করে একটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রও তৈরি করেছেন, যা তার কাজকে অমীমাংসিত ও তীক্ষ্ণ করে তুলেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত “লিংগুই, দ্য সেক্রেড বন্ডস” চলচ্চিত্রে তিনি প্রথমবারের মতো নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে আরও আশাবাদী সুর বেছে নেন। এই দিকটি “সৌমসৌম”-এও অব্যাহত রয়েছে, যেখানে কিশোরী প্রধান চরিত্রের যাত্রা ও স্থিতিস্থাপকতা তুলে ধরা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের কাহিনী একটি আধুনিক রূপকথা, যেখানে তরুণদের মুখোমুখি হওয়া ভয় ও অজানা পরিস্থিতি হরর চলচ্চিত্রের কিছু উপাদানকে স্মরণ করিয়ে দেয়, তবে প্রচলিত জাম্প স্কেয়ার ব্যবহার করা হয়নি। পরিবর্তে গল্পের মোড় ও থিমগুলো হররের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা দর্শকের মনোযোগকে টানতে সাহায্য করে।
বার্লিন ফেস্টিভ্যালের প্রতিযোগিতামূলক প্রিমিয়ারটি শিল্পকলা প্রেমিকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়, যদিও হারুনের শৈলী ধীরগতির ও শৈল্পিক, যা সাধারণ বক্স অফিসের চেয়ে আর্ট হাউসের দর্শকদের বেশি আকৃষ্ট করে। চলচ্চিত্রের দৃশ্যমান গুণমান বিশেষভাবে প্রশংসিত, কারণ এটি চাদের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এনেডি প্লাটোর বিস্ময়কর মরুভূমি দৃশ্যকে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেছে।
চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে মাইমুনা মাইওয়ামা, এরিক এবুয়ান, আচৌয়াখ আবাকার সুলেমান, ব্রিগিট তচানেগু, সাম্বো সেলাহ আদাম এবং ক্রিস্ট আসিদজিম মবাইহর্নোম অভিনয় করেছেন। তাদের পারফরম্যান্সকে চলচ্চিত্রের বর্ণনামূলক গভীরতার সঙ্গে সমন্বয় করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের স্ক্রিনরাইটিং কাজ হারুন নিজে এবং লরাঁ গডে একসাথে করেছেন। গডের সাহিত্যিক পটভূমি গল্পের কাঠামোকে সমৃদ্ধ করেছে, ফলে কাহিনীর প্রবাহ স্বাভাবিক ও মসৃণ হয়েছে।
চলচ্চিত্রের শুটিং স্থান হিসেবে এনেডি প্লাটোর বিশাল শিলা গঠন, রঙিন বালুকাময় ভূমি এবং আকাশের নীল রঙকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকের কাছে দৃশ্যমানভাবে চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এই প্রাকৃতিক পটভূমি কাহিনীর মায়াবী ও রহস্যময় পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করে।
হারুনের কাজের বৈশিষ্ট্য হল তার অপ্রতিরোধ্য বাস্তববাদ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা “সৌমসৌম”-এও স্পষ্ট। যদিও গল্পটি কিশোর-কিশোরীর দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে, তবু এটি বৃহত্তর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মানবিক সংগ্রামকে তুলে ধরে।
চলচ্চিত্রের গতি ধীর হলেও, এতে কিছু স্মরণীয় দৃশ্য রয়েছে, যা দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় শিলা গঠনের ওপর আলোকসজ্জা ও শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্যগুলোকে সমালোচকরা প্রশংসা করেছেন।
বার্লিন ফেস্টিভ্যালের এই প্রিমিয়ারটি চাদের চলচ্চিত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। হারুনের কাজের মাধ্যমে চাদের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্বমঞ্চে আলোতে এসেছে।
চলচ্চিত্রটি এখন থেকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। দর্শকরা যদি শৈল্পিক, ধীরগতি ও দৃশ্যমান সৌন্দর্যপূর্ণ চলচ্চিত্র পছন্দ করেন, তবে “সৌমসৌম, দ্য নাইট অব দ্য স্টার্স” তাদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে।



