দিল্লি কনসুলেটের ভিসা বিভাগে দুই মাসের বন্ধের পর ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এবং বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত হবে।
বন্দের সময়কালে সকল ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল এবং আবেদনকারীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। পুনরায় খোলার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ, ব্যবসায়িক এবং পর্যটন ভিসার জন্য সরাসরি কাউন্টার সেবা পুনরায় শুরু হয়েছে।
কনসুলেটের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সপ্তাহের ছয় দিন সেবা প্রদান করা হবে। আবেদনকারীদের পূর্বে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি সম্পূর্ণভাবে জমা দিতে হবে।
এই পুনরায় চালু হওয়া সেবা বিশেষত বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা সহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা শিক্ষার, কর্মসংস্থান বা পারিবারিক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভারত ভ্রমণ করেন।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় চালু হওয়া সেবার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে উল্লেখ করেছে যে, ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়ক হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, সেবা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ চাহিদা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।
দিল্লি কনসুলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পুনরায় খোলার পর প্রথম সপ্তাহে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ আবেদনকারী সেবা গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
কনসুলেটের নিরাপত্তা বিভাগও উল্লেখ করেছে যে, সব আবেদনকারীর পটভূমি যাচাই এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। বিশেষ করে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা আবেদনকারীদের অতিরিক্ত স্ক্রিনিং করা হবে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে দেখা যায়, ভারতের অন্যান্য প্রধান দূতাবাসগুলোও একই সময়ে ভিসা সেবা পুনরায় চালু করেছে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পুনরুদ্ধারের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি বৈশ্বিক পর্যটন সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে এশিয়ার ভ্রমণ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, ভিসা সেবার ধারাবাহিকতা শুধুমাত্র পর্যটনই নয়, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এবং মানবিক মিশনের জন্যও অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই ধরনের নীতি পরিবর্তন দুই দেশের বাণিজ্যিক মাপদণ্ডকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনরায় চালু হওয়া সেবার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন আবেদন পোর্টালও আপডেট করা হয়েছে, যাতে আবেদনকারীরা পূর্বে নির্ধারিত সময়ে ডকুমেন্ট আপলোড করে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ পেতে পারেন। তবে কনসুলেটের নির্দেশনা অনুসারে, কিছু বিশেষ ভিসা (যেমন কাজের ভিসা) এখনও সরাসরি সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হতে পারে।
কনসুলেটের কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেবা পুনরায় বন্ধ করার সম্ভাবনা কমিয়ে রাখতে অতিরিক্ত স্টাফ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। এই ব্যবস্থা সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে এবং আবেদনকারীর অসুবিধা হ্রাস করবে।
সারসংক্ষেপে, দুই মাসের বিরতির পর দিল্লিতে ভিসা সেবা পুনরায় চালু হওয়া আন্তর্জাতিক গতি-প্রবাহকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং ভারত-দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে। এই পদক্ষেপটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।



