23.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ রায়

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ রায়

শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ের লেখক হিসেবে অংশ নেন এবং নিম্ন আদালতের পূর্বের সিদ্ধান্তকে বজায় রাখেন। রায়টি ট্রাম্পের মেয়াদে আরোপিত শুল্কের সংবিধানিক বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের ফলাফল। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

নিম্ন আদালত পূর্বে শুল্কগুলোকে প্রেসিডেন্টের একতরফা ক্ষমতা হিসেবে অস্বীকার করে, কারণ সেগুলো কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত হয়েছিল। মামলায় যুক্তি দেওয়া হয় যে এই পদক্ষেপগুলো বিদ্যমান বাণিজ্য আইনকে লঙ্ঘন করেছে। তাই উচ্চ আদালত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুমতি দেয়।

সুপ্রিম কোর্টে ছয়জন বিচারপতি শুল্কগুলোকে অবৈধ বলে ভোট দেন, আর তিনজন বিচ্যুতি প্রকাশ করেন। রবার্টসের মতামতে বলা হয়েছে যে নির্বাহী শাখা কংগ্রেসের নির্ধারিত সীমার বাইরে একতরফা শুল্ক আরোপ করতে পারে না। বিচ্যুতি করা বিচারপতিগণ উল্লেখ করেন যে এই রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোর স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি জর্জিয়া অনুষ্ঠানে তিনি প্রেসিডেন্টের শুল্ক নির্ধারণের অধিকারকে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, শুল্ক না থাকলে আমেরিকান ব্যবসা দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই বক্তব্যটি সমর্থক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সামনে দেওয়া হয়।

হোয়াইট হাউস এখনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি, তবে সূত্র অনুযায়ী সরকারকে বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগ উল্লেখ করেছে যে শুল্কের পুনর্গঠন প্রয়োজনীয় হতে পারে।

বিশ্লেষকরা জানান, শুল্ক বাতিল হলে কিছু শিল্পে আমদানি খরচ কমে যাবে, তবে অন্যদিকে উচ্চ শুল্কে অভ্যস্ত খাতগুলোতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর প্রভাব বেশি হবে, যেহেতু এই পণ্যগুলোতে ট্রাম্পের শুল্ক সবচেয়ে কঠোর ছিল।

আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশগুলোও এই রায়ের দিকে নজর রাখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনরায় আলোচনা করার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনি অবস্থান সম্পর্কে তথ্য আদানপ্রদান চলছে।

কংগ্রেসের উভয় পার্টির সদস্যরা প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য ক্ষমতা স্পষ্ট করতে আইন প্রণয়নের কথা ভাবছেন। কিছু আইনপ্রণেতা একতরফা শুল্ক আরোপ রোধে বিধান যোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই রায় পূর্বের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা, যা নির্বাহী শাখার বাণিজ্যিক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করেছে। আদালত আবারও আইনগত সীমারেখা নির্ধারণে তার ভূমিকা জোরদার করেছে।

সরকার এখন রায় মেনে চলা বা আপিল করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপিল করা হলে মূল বিষয় হবে ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের ব্যাখ্যা।

রাজনৈতিকভাবে, এই রায়টি আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে বাণিজ্য নীতি নিয়ে বিতর্ককে তীব্র করবে। বিরোধী দল রায়কে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

ব্যবসায়িক গোষ্ঠী রায়কে স্বাগত জানিয়েছে, কারণ তারা পূর্বানুমানযোগ্য বাণিজ্য নীতি চায়। তবে ভোক্তা সংস্থা সতর্ক করেছে যে নীতির হঠাৎ পরিবর্তন দৈনন্দিন পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ রায় ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল করেছে এবং সরকারকে বাণিজ্য চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাহী শাখার বাণিজ্যিক পদক্ষেপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments