23.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসর্বোচ্চ আদালত ট্যারিফ সংক্রান্ত রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত

সর্বোচ্চ আদালত ট্যারিফ সংক্রান্ত রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত

শুক্রবার, সর্বোচ্চ আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ আরোপের ক্ষমতা নিয়ে ৬ জাস্টিসের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় প্রদান করে। আদালত স্পষ্ট করে জানায় যে, ট্যারিফ আরোপের অধিকার কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়, এবং ১৯৭৭ সালের ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্টে ট্রাম্পের জন্য এমন বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদান করা হয়নি।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন সরকার কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্যারিফ নির্ধারণ করতে পারে না। আদালত এই সিদ্ধান্তে জোর দেয় যে, প্রেসিডেন্টের ট্যারিফ নীতি আইনগত ভিত্তি ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর করা যায় না। এই ব্যাখ্যা ট্যারিফ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী একাধিক নির্বাহী আদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ট্যারিফ নীতি চালানোর পরিকল্পনার জন্য একটি বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প পূর্বে ট্যারিফকে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করলেও, আদালত তার উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করে কংগ্রেসের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই রায়কে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার উপর বিরল চেক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত বছর জাস্টিসদের বেশিরভাগই ইমিগ্রেশন ও ফেডারেল সরকার সংস্কারের মতো বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের এজেন্ডা সমর্থন করে আসলেও, ট্যারিফ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত তাদের অবস্থানকে পরিবর্তন করেছে।

কেসটি জরুরি অবস্থা হিসেবে দ্রুত আদালতে আনা হয়েছিল, যা ট্রাম্পের বিস্তৃত নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারকে সীমিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে যে, ট্যারিফ সংক্রান্ত বিষয়টি নিম্ন আদালতে আরও বিবেচনা করা হবে।

সর্বোচ্চ আদালতে বর্তমানে জন্মসংশ্লিষ্ট নাগরিকত্ব বাতিল এবং ফেডারেল রিজার্ভ গভার্নরের পদত্যাগের মতো অন্যান্য উচ্চপ্রোফাইল কেসও চলমান। এই রায়ের ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নীতি চালু করার ক্ষমতা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই রায়ের ফলে মার্কিন সরকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক দরকষাকষিতে কম প্রভাবশালী হতে পারে। ট্যারিফের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা হ্রাস পেলে, আমেরিকান বাণিজ্য অংশীদাররা আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে।

অতিরিক্তভাবে, ট্রাম্পের প্রশাসনকে গত এক বছর জুড়ে সংগ্রহ করা ট্যারিফ আয়ের একটি বড় অংশ ফেরত দিতে হতে পারে। আদালতের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ট্যারিফের বৈধতা না থাকলে তার থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের ব্যবহারও প্রশ্নবিদ্ধ।

ব্রেট কাভানো, যিনি রায়ের বিরোধিতা করেছেন, তার মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তটি নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রায়ের বিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তি দেন যে, প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।

সর্বোচ্চ আদালত রায়ে ট্যারিফ সংক্রান্ত বিষয়টি নিম্ন আদালতে নির্ধারণের জন্য ছেড়ে দিয়েছে, ফলে পরবর্তী পর্যায়ে কংগ্রেস ও প্রশাসনের মধ্যে আইনি বিতর্ক বাড়তে পারে। এই প্রক্রিয়া ট্যারিফ নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সারসংক্ষেপে, সর্বোচ্চ আদালতের রায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি ও তার বিস্তৃত নির্বাহী ক্ষমতার ওপর সীমা আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি গঠনে নতুন গতিপথ নির্ধারণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, এবং আগামী মাসে আরও আইনি লড়াইয়ের সূচনা করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments