রাশিয়া এবং ইরান শুক্রবার ফোনে একে অপরের সঙ্গে সমর্থন পুনরায় নিশ্চিত করেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আলোচনায় অংশ নেন। উভয় পক্ষের কথোপকথন মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়।
সের্গেই ল্যাভরভ ফোনালাপে ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি রাশিয়ার দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে রাশিয়া আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনপিটি) মেনে চলা একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। এই সমাধান ইরানের বৈধ অধিকার রক্ষা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই ফোনালাপের আগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় পরোক্ষ আলোচনার রাউন্ড শেষ হয়েছে। জেনেভা বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা পরস্পরের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের চেষ্টা করেন।
ওমানের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের সেতু হিসেবে কাজ করেছে। জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয় রাউন্ডে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রাশিয়া এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং একটি ন্যায্য আলোচনার কাঠামোকে সমাধানের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখে।
সের্গেই ল্যাভরভ রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান কেবলমাত্র সুষ্ঠু ও ন্যায্য আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব। তিনি পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত চলমান বিতর্কের সমাধানে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভা বৈঠকের পরিবেশকে গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ভিত্তি স্থাপন হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কিছু শর্তে ইরান এখনও যথেষ্ট নমনীয় নয় বলে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত রেড লাইনের প্রতি ইরানের অপ্রতিবেদনযোগ্যতা উল্লেখ করে বলেন যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তে অগ্রগতি সীমিত।
হোয়াইট হাউসের মতে, আগামী দশ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি অর্জন সম্ভব হবে কিনা তা স্পষ্ট হবে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা না হয়, তবে ওয়াশিংটন আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা রাশিয়ার কূটনৈতিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে রাশিয়ার এই সমর্থন ইরানের পরমাণু নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে রাশিয়া এবং ইরানের সমন্বয় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে। রাশিয়া, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক ক্রিয়া আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।



