বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (বজিএই) শ্রীশ্রী শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল কেন্দ্রীয় মজলিসে ২০২৬-২০২৮ কার্যবছরের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন ও শপথ সম্পন্ন করেছে। এই সভা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় এবং দলটির ১৪টি সংগঠনগত অঞ্চলে পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।
সভা পরিচালনা করেন দলীয় আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, যিনি মজলিসের শূরার সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন কমিটির সদস্যদের নির্বাচন করেন এবং শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল পদে পুনরায় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে নিযুক্ত করা হয়েছে। পরওয়ার পূর্বে এই পদে ছিলেন এবং তার পুনঃনিয়োগ দলীয় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির চার নায়েব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এ.টি.এম. আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) এবং মাওলানা এ.এন.এম. শামসুল ইসলাম। এই চারজনকে দলীয় নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে বলা হয়েছে।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে মাওলানা এ.টি.এম. মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ডা. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরা দলীয় প্রশাসনিক কাজকর্মে সহায়তা করবে।
২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এ.টি.এম. আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি), মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা এ.টি.এম. মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ডা. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন (এমপি), অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ (এমপি), অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মো. মোবারক হোসাইন, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি), মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি) ও ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এই পরিষদ দলীয় নীতি নির্ধারণ ও কার্যকরী পর্যবেক্ষণে দায়িত্বশীল।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন, আর ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১৭ জন নারী অন্তর্ভুক্ত। নারী অংশগ্রহণের এই বৃদ্ধি দলীয় সংগঠনকে আরও সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন হিসেবে পাঁচজন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ ভোটিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। এই কমিশন দলীয় নির্বাচনী নিয়মাবলী প্রয়োগ ও তদারকি করবে।
বজিএই দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে ১৪টি সংগঠনগত অঞ্চলে ভাগ করেছে। প্রতিটি অঞ্চলে নির্দিষ্ট দায়িত্বশীল ও সমন্বয়কারী গঠন করে দলীয় কার্যক্রমের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং স্থানীয় স্তরে নীতি বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করা হবে।
এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দলকে আগামী তিন বছরকালের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এবং নির্বাচনী পরিসরে তার অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখবে। নতুন কমিটি ও সংগঠন কাঠামো কীভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে প্রভাব ফেলবে তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



