শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি২০ বিশ্বকাপের সুপার‑ইটেন ম্যাচের আগে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান মার্ক চ্যাপম্যান শুক্রবার জানালেন, দলটি ভারতীয় পিচের পরে শ্রীলঙ্কার ভিন্ন ধরনের পিচে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।
নিউজিল্যান্ডের সুপার‑ইটেন ক্যাম্পেইন শুরু হবে শনিবার কলম্বোতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, এরপর শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে একই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে। দলের প্রথম দুই ম্যাচের পিচ ভারতীয় শহর চেন্নাই ও আহমেদাবাদে ছিল, যেখানে পিচ দ্রুত ও ব্যাটিং‑ফ্রেন্ডলি ছিল।
চ্যাপম্যানের মতে, ভারতীয় পিচে খেলায় দলটি ধীর পিচের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। “ভারতে ধীর পিচে খেলতে গিয়ে আমরা কী করতে হবে তা বুঝে গেছি,” তিনি উল্লেখ করে জানান, “সেই অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কার পিচে কাজে লাগবে।”
কলম্বোর পিচে গতি, বাউন্স ও স্পিনের পার্থক্য স্পষ্ট, তবে নিউজিল্যান্ডের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই শ্রীলঙ্কায় আগে থেকেই ক্রিকেট খেলেছে। তাই পিচের পরিবর্তনকে তারা বড় বাধা হিসেবে দেখছে না।
পাকিস্তান শ্রীলঙ্কায় চারটি ম্যাচই খেলেছে এবং তাদের স্পিন আক্রমণ শক্তিশালী। চ্যাপম্যান নিশ্চিত করেছেন, নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা পাকিস্তানের স্পিনারদের মোকাবিলায় প্রস্তুত, বিশেষ করে উসমান তরিকের অস্বাভাবিক ডেলিভারি স্টাইলকে লক্ষ্য করে। “তরিকের অ্যাকশন অনন্য, তিনি ডেলিভারির মাঝখানে থেমে সাইড‑আর্ম ভ্যারিয়েশন দেন, সেটা আমাদের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত,” তিনি ব্যাখ্যা করেন।
পাকিস্তানের স্পিনারদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব হুমকি রয়েছে, তাই নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। তরিকের পাশাপাশি অন্যান্য স্পিনারদেরও দলটি বিশ্লেষণ করেছে।
ইতিহাসে পাকিস্তান নিউজিল্যান্ডকে টি২০ বিশ্বকাপে সাতবারের মধ্যে পাঁচবার পরাজিত করেছে, যা এই ম্যাচে উভয় দলের জন্য অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করে। চ্যাপম্যান এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “পূর্বের রেকর্ড আমাদের জানায় যে পাকিস্তান আমাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ, তবে আমরা প্রস্তুত।”
ক্যাপ্টেন মিচেল স্যান্টার গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কারণে কানাডা ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন, তবে তিনি শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসতে যাচ্ছেন। চ্যাপম্যান জানান, “স্যান্টার ফিরে আসতে খুবই উচ্ছ্বসিত, শেষ মুহূর্তে কোনো অসুস্থতা না হলে তিনি মাঠে উপস্থিত থাকবেন।”
পেসার লকি ফারগুসন পরিবারিক কারণে কানাডা জয়ের পর দেশে ফিরে গেছেন, তার প্রথম সন্তানের জন্মের জন্য। তিনি শুক্রবার রাতেই শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসবেন, তবে পাকিস্তান ম্যাচে তার অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়।
ফারগুসনের অনুপস্থিতি নিউজিল্যান্ডের পেসিং অপশনকে সীমিত করেছে, তবে দলের গভীরতা ও অভিজ্ঞতা এই ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। কোচিং স্টাফের মতে, পেসারদের পরিবর্তে স্পিনার ও মিডল‑অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা বাড়বে।
শ্রীলঙ্কার পিচে গতি ও বাউন্সের পরিবর্তন, পাশাপাশি পাকিস্তানের শক্তিশালী স্পিনারদের মুখোমুখি হওয়া, নিউজিল্যান্ডের জন্য চ্যালেঞ্জের সমাহার। তবু চ্যাপম্যানের আত্মবিশ্বাস এবং দলের পূর্ব অভিজ্ঞতা এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলার ভিত্তি তৈরি করেছে।
সুপার‑ইটেন পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচগুলোই কলম্বোর একই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্ধারিত। দলটি এই সুযোগকে ব্যবহার করে টুর্নামেন্টে অগ্রগতি করার লক্ষ্য রাখছে।



