চট্টগ্রাম জেলায় ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পোস্টাল ভোটে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীরা মোট ভোটের প্রায় ৫৯ শতাংশ পেয়েছেন, যেখানে বিএনপি প্রার্থীরা ২৮ শতাংশই সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এই পার্থক্য ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫টিতে দেখা গেছে, শুধুমাত্র চট্টগ্রাম‑১-এ উভয়ের পার্থক্য কম।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম‑১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে পার্থক্য সর্বোচ্চ ছিল; জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী ৮,০০০-এর বেশি পোস্টাল ভোট সংগ্রহ করে বিএনপি প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেন। অন্যান্য আসনে যদিও পার্থক্য কম, তবু জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশি ভোট পেয়েছেন।
স্থানীয় নেতা ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাউজান, মিরসরাই, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও ফটিকছড়ি এলাকায় বেশিরভাগ প্রবাসী বাস করেন। ঐ অঞ্চলগুলোতে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রভাব শক্তিশালী, ফলে প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে তাদের সমর্থক সংখ্যা বেশি। এই বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ার ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির পোস্টাল ভোটে অগ্রগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলায় ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, আর জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী দুটো আসনে (চট্টগ্রাম‑১৫ ও চট্টগ্রাম‑১৬) জয়লাভ করেছেন। চট্টগ্রাম‑২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম‑৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে যদিও বিএনপি প্রার্থীরা অগ্রগামী, তবে ফলাফল এখনও ঘোষিত হয়নি এবং পোস্টাল ভোটে তাদের পিছিয়ে থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এই নির্বাচন প্রথমবারের মতো প্রবাসী নাগরিকদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভোটাররা তাদের ব্যালট পোস্টাল সেবার মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। একই সময়ে দেশে সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আনসার-ভিডিপি ও কারাবন্দীদের জন্য ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) চালু ছিল।
পোস্টাল ভোটের ফলাফল সাধারণ ভোটের মতোই গণনা করা হয়। ভোটারদের ব্যালট নির্ধারিত পোস্টাল ভোট কেন্দ্রের কক্ষে খোলা হয়, যেখানে সিলগালা করা ব্যালট বক্স থেকে ভোটগুলো বের করে গোনা হয়। এই প্রক্রিয়া ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে পরিচালিত হয়।
চট্টগ্রাম‑৬ (রাউজান) আসনে মোট ২,৬৬৬ পোস্টাল ভোট রেকর্ড হয়েছে। জামায়াত-এ-ইসলামির শাহজাহান মঞ্জু ১,১০৫ ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে দাঁড়ান, আর বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১,৩৩৬ ভোট সংগ্রহ করেন। উভয়ের পার্থক্য তুলনামূলকভাবে কম হলেও জামায়াত-এ-ইসলামির অগ্রগতি স্পষ্ট।
চট্টগ্রাম‑৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ৪,১২১। বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী ১,২০৩ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন, আর জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী একই আসনে প্রায় সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফল দেখায় যে কিছু আসনে পোস্টাল ভোটে দুই দলই সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার মূল কারণ হিসেবে প্রবাসী ভোটারদের ভৌগোলিক বিতরণ উল্লেখ করা যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে জামায়াত-এ-ইসলামির সমর্থক সংখ্যা বেশি, ফলে তাদের ভোটের প্রভাব বাড়ে। অন্যদিকে, রাউজান ও ফটিকছড়ি মতো এলাকায় বিএনপি এখনও শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি উভয় দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় লোকজনের মতে, পোস্টাল ভোটের ফলাফল ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয় দলই প্রবাসী ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে তাদের সমর্থন জোরদার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাবে পোস্টাল ভোটের প্রভাব কতটুকু পার্টির আসন জয় বা হার নির্ধারণে সহায়তা করেছে। নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে, উভয় দলই পোস্টাল ভোটের ডেটা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী নির্বাচনী প্রচারণা গঠন করবে। এই প্রক্রিয়া দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রামের পোস্টাল ভোটে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যদিও বিএনপি এখনও অধিকাংশ আসনে জয়ী হয়েছে। পোস্টাল ভোটের ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



