Peak XV শুক্রবার নতুন তহবিলের মাধ্যমে $1.3 বিলিয়ন সংগ্রহের ঘোষণা দেয়। তহবিলটি ভারত ও এশিয়া কেন্দ্রীভূত, এবং কোম্পানির মোট সম্পদ এখন $10 বিলিয়নেরও বেশি। এআই প্রযুক্তি এবং সীমান্ত পারাপার বিনিয়োগে জোর দিয়ে, অঞ্চলীয় ডিলের প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়ায় কৌশলগত পরিবর্তন করা হচ্ছে।
সংগৃহীত মূলধন প্রধানত ভারতীয় সিড এবং ভেঞ্চার ফান্ড, পাশাপাশি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (APAC) গাড়িতে বরাদ্দ করা হবে। শৈলেন্দ্র সিংহ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, উল্লেখ করেন যে অধিকাংশ অর্থ ভারতীয় বাজারে ব্যবহার করা হবে এবং আগামী দুই‑তিন বছর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
Peak XV ২০২৩ সালে সিকোইয়া ক্যাপিটাল থেকে আলাদা হয়ে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছে। আলাদা হওয়ার মূল কারণ ছিল সিকোইয়া ক্যাপিটালের ভারতীয় পোর্টফোলিওকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনা করার ইচ্ছা। এই বিচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে কোম্পানির স্বায়ত্তশাসন ও বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে।
বর্তমানে Peak XV এর পোর্টফোলিওতে ৪৫০টিরও বেশি কোম্পানি রয়েছে, যা ফিনটেক, সফটওয়্যার এবং কনজিউমার ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন সেক্টরে ছড়িয়ে আছে। সিড থেকে গ্রোথ পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে এই কোম্পানিগুলোকে সমর্থন করা হয়, যা ফান্ডের বৈচিত্র্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করে।
নতুন তহবিল সংগ্রহের সময়ই দিল্লি AI Impact Summit অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং গুগলসহ বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করে। এই ইভেন্টটি এশিয়ায় এআই ইকোসিস্টেমের বিকাশে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়িয়ে তুলেছে এবং স্থানীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটালদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
সম্মেলনে General Catalyst ঘোষণা করে আগামী পাঁচ বছরে ভারতীয় বাজারে $5 বিলিয়ন বিনিয়োগের পরিকল্পনা, যা পূর্বের প্রতিশ্রুতির তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই ধরনের বড় স্কেলের পুঁজি প্রবাহ দেশীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা রাখে।
শৈলেন্দ্র সিংহ জোর দিয়ে বলেন, Peak XV প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ডলারের সমান পরিমাণে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য রাখে না। ফান্ডের মূল উদ্দেশ্য হল উচ্চ রিটার্ন অর্জন, সম্পদ আকার বাড়ানোর চেয়ে। তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাজারের সম্ভাবনা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
ফান্ডের আকার নির্ধারণে কোম্পানি সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীল রিটার্ন নিশ্চিত করতে সহায়ক। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে Peak XV উচ্চ মানের ফান্ড গঠনকে অগ্রাধিকার দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি বাড়াতে কোম্পানি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কৌশলগতভাবে পদক্ষেপ নেয়। শৈলেন্দ্র সিংহ উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তারা ‘আন্ডারডগ’ অবস্থায় থাকলেও সফটওয়্যার, ডেভেলপার টুলস এবং ফিনটেক ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা একটি সুবিধা হিসেবে কাজ করে।
এই কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সেগমেন্টে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করে, যেখানে তাদের দক্ষতা ও নেটওয়ার্কের সুবিধা সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করা যায়। ফলে, সীমিত সম্পদকে সর্বোচ্চ প্রভাবের দিকে কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হয়।
সম্প্রতি Peak XV তে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটেছে; সিনিয়র পার্টনার আশিশ আগরওয়াল এবং বিনিয়োগকারী ইশান মিত্তাল ও তেজেশ্বি শর্মা পদত্যাগ করেছেন। তবু শৈলেন্দ্র সিংহ নিশ্চিত করেন যে ফার্মের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অপরিবর্তিত রয়ে যাবে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।



