23.7 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া-কালাইয়া এলাকায় চাঁদা না দেওয়ার কারণে ব্যবসায়ীকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে, কালাইয়া ধান হাট সেতুর নিকটে ঘটেছে। হুমকি দেওয়া ব্যক্তি হলেন দাসপাড়া-কালাইয়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, যাকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা ও সদস্যরা চাঁদা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর লক্ষ্যবস্তু করে।

দাসপাড়া-কালাইয়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতি স্থানীয় ৩২টি ব্যবসায়িক দোকানকে একত্রিত করে, যেগুলো ট্রলার ও কার্গো মাধ্যমে সিমেন্ট, বালি, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করে। প্রতিদিন প্রায় পনের থেকে বিশটি ট্রলার এই এলাকায় পৌঁছে, এবং প্রতিটি ট্রলার ও কার্গো থেকে ব্যবসায়ীরা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা প্রদান করে। এই চাঁদা দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় সংগ্রহ করা হয়ে আসছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় সমিতির জরুরি সভায় চাঁদা সংগ্রহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে সমিতির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধ উত্থাপিত হয়। বিশেষ করে বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন প্যাদার (৫৫) পুত্র শান্ত প্যাদা (২২) এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শান্ত প্যাদা পূর্বে নিয়মিত চাঁদা গ্রহণ করতেন এবং সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর চাঁদা না দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ান।

শান্ত প্যাদা যখন বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদা সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হন, তখন মোস্তাফিজুর রহমান চাঁদা দিতে অক্ষমতা জানিয়ে দেন। এর ফলে শান্ত প্যাদা প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন, যা শোনার পর সমিতির সদস্যরা তৎক্ষণাৎ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের পর শান্ত প্যাদা আরও রেগে যান এবং পুনরায় হুমকি জানান।

শুক্রবারের সকালেই দাসপাড়া-কালাইয়া এলাকার ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে দোকান বন্ধ করে রাখেন। একই সময়ে ওই এলাকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি চাঁদা সংগ্রহ বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। শফিকুল ইসলামের আশ্বাসে ব্যবসায়ীরা বিকেল দশটায় আবার দোকান খুলে দেন।

সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, শান্ত প্যাদার হাতে সব সময় অস্ত্র থাকে এবং তাই তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার দাবি তোলেন এবং পুলিশের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। শান্ত প্যাদার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পাওয়া যায়নি।

শান্ত প্যাদার বাবা, স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন প্যাদা, ঘটনায় মন্তব্য করে বলেন যে দাসপাড়া ইউনিয়নের সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার জলমহল পাওয়া গিয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার এই মন্তব্যের পরও শান্ত প্যাদার whereabouts অজানা রয়ে যায়।

পুলিশ এখন পর্যন্ত শান্ত প্যাদার ওপর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। এছাড়া সমিতির সদস্যদের চাঁদা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা ও আইনগত প্রভাব নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনও পর্যবেক্ষণ করছে। ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইন মেনে চলতে এবং কোনো ধরণের হিংসা বা হুমকি না দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments