মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকার গঠনকারী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই ক্যাবিনেটের সদস্যদের মধ্যে নির্বাচনী আসন ও জন্মভূমি অনুযায়ী বিভাগভিত্তিক বণ্টন প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকার প্রতিনিধিত্ব সর্বোচ্চ, সিলেটের অংশগ্রহণ সর্বনিম্ন।
মন্ত্রিসভায় মোট ১৩ জন সদস্য ঢাকা বিভাগ থেকে এসেছেন, যার মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মিশ্রণ রয়েছে। বিপরীতে সিলেট বিভাগ থেকে মাত্র দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, কোনো প্রতিমন্ত্রী নেই।
দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম বিভাগ রয়েছে, যেখানে ১১ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। তৃতীয় স্থান দখল করেছে রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল, প্রত্যেক বিভাগে পাঁচজন করে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগে চারজন করে সদস্য অন্তর্ভুক্ত।
ঢাকা বিভাগের মন্ত্রী তালিকায় টেকনোক্র্যাট খলিলুর রহমান, শামা ওবায়েদ ইসলাম, আফরোজা খানম রিতা, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম অন্তর্ভুক্ত। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে শরিফুল আলম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), হাবিবুর রশিদ, ইশরাক হোসেন, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে মন্ত্রী হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, এ.এন.এম. এহছানুল হক ও টেকনোক্র্যাট মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ শপথ নেন। প্রতিমন্ত্রীর দলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও জোনায়েদ সাকি অন্তর্ভুক্ত।
রাজশাহী বিভাগ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মিজানুর রহমান মিনু মন্ত্রী পদে স্বীকৃত হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় মীর শাহে আলম, ফারজানা শারমিন ও এম এ মুহিত রয়েছেন।
রংপুর বিভাগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ও আসাদুল হাবিব দুলু মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ফরহাদ হোসেন আজাদ ও আব্দুল বারী অন্তর্ভুক্ত।
বরিশাল বিভাগে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী পদে নিযুক্ত হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর দলে রাজীব আহসান, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর ও নুরুল হক নুর রয়েছেন।
খুলনা বিভাগ থেকে নিতাই রায় চৌধুরী ও মো. আসাদুজ্জামান মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও শেখ ফরিদুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত।
ময়মনসিংহ বিভাগে কোনো মন্ত্রী নিযুক্ত হয়নি; তবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, কায়সার কামাল, ইয়াসের খান চৌধুরী ও এম ইকবাল হোসেনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগ থেকে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী শপথ নেন, তবে প্রতিমন্ত্রীর কোনো নাম তালিকায় নেই। এই বণ্টন থেকে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের রাজনৈতিক প্রভাব নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক, আর সিলেটের প্রতিনিধিত্ব সীমিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, মন্ত্রিসভার এই কাঠামো ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে বিভাগীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা বিভাগের উচ্চ প্রতিনিধিত্ব সরকারী সিদ্ধান্তে তাদের প্রভাব বাড়াতে পারে।
নতুন ক্যাবিনেটের শপথ অনুষ্ঠান শেষে, সরকারী কর্মকর্তারা ও পার্টি নেতারা একত্রে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতি অগ্রাধিকারের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। এই শপথ অনুষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের নতুন দিকনির্দেশনা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।



