ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য অধিকাংশ দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিককে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। শুধুমাত্র অ-ব্রিটিশ পাসপোর্ট দেখালে আর বিমান বা ফেরি চেক‑ইনে অনুমোদন পাবেন না, যদি না তা £৫৮৯ মূল্যের অধিকার‑সার্টিফিকেট বহন করে।
এই অধিকার‑সার্টিফিকেটটি ‘রাইট অব অ্যাবড’ নিশ্চিত করে এবং না থাকলে ভ্রমণকারীর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য অতিরিক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নতুন নিয়মটি যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ETA) সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য গৃহীত।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্রিটিশ নাগরিকের দেশে প্রবেশ ও বসবাসের মৌলিক অধিকার অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। তবে বাস্তবে সেই অধিকার দেখানোর পদ্ধতি এখন পাসপোর্টের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিজিটাল যুগে নাগরিকত্বের প্রমাণকে ইলেকট্রনিক রেকর্ডে রূপান্তরিত করা সরকারকে সীমানা নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা প্রদান করে। একই সঙ্গে ভ্রমণকারীর জন্য অতিরিক্ত নথি প্রস্তুতির চাপ বাড়ে।
গত তিন দশকে দ্বৈত নাগরিকত্বের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯০ সালে প্রায় এক তৃতীয়াংশ দেশেরই দ্বৈত জাতীয়তা অনুমোদন করত, আর ২০১৬ সালে এই সংখ্যা প্রায় তিন-চতুর্থাংশে পৌঁছায়।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২০২১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া বাসিন্দাদের ১.২ শতাংশ (প্রায় ৫৮৭,৬০০ জন) অন্য কোনো দেশের সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করে, যা ২০১১ সালের ০.৫ শতাংশ (২৩১,৬০০ জন) থেকে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, বিদেশি জন্মগ্রহণকারী বাসিন্দাদের মধ্যে ৬.৫ শতাংশ (প্রায় ৬৪৮,৭০০ জন) যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখে, যা ২০১১ সালের ৫.১ শতাংশ (৩৮১,২০০ জন) থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই বৃদ্ধির পেছনে ব্রেক্সিটের প্রভাব স্পষ্ট। ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত অনেক ব্রিটিশ বাসিন্দা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্ট ধরে রাখে, যাতে ইউরোপে ভ্রমণ ও কাজের সুবিধা বজায় থাকে, আর কিছু ইউরোপীয় নাগরিক যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে অনিরোধিত প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করে।
অতএব, আজকের যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকদের গোষ্ঠীতে দীর্ঘদিনের অভিবাসী ও ডায়াস্পোরা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ব্রেক্সিট‑পরবর্তী ইউরোপীয় নাগরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত।
নতুন পাসপোর্ট শর্তের ফলে বিমান সংস্থা, ফেরি অপারেটর ও সীমানা সেবা প্রদানকারীদের অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া চালু করতে হবে, যা সেবার খরচ ও সময় বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে অধিকার‑সার্টিফিকেটের উচ্চ মূল্য কিছু ভ্রমণকারীকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
রাজনৈতিকভাবে এই পদক্ষেপটি নাগরিকত্বের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পরিচয় যাচাই নীতি গ্রহণের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তবে এটি দ্বৈত নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণে সরকারের ইচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার একটি সূচকও বটে।
সরকারের পক্ষ থেকে নতুন নিয়মের প্রয়োগের পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নাগরিকদের তথ্যপ্রদান ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা বাড়াতে পরিকল্পনা করছে।
সারসংক্ষেপে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় দ্বৈত নাগরিকদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক হবে, এবং অধিকার‑সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করবে। এই পরিবর্তন নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ রূপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



