ক্যামেরুনের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের ইংরেজি‑ভাষী অংশে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে সংঘটিত নগ্রবুহ গ্রাম দখলের পর, তিনজন সৈনিককে ২১ জন বেসামরিকের মৃত্যুর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সামরিক আদালত বৃহস্পতিবার তাদের প্রত্যেককে পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
এই মামলায় অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ড, অগ্নিকাণ্ড এবং সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হয়েছে। ক্যামেরুনে সামরিক কর্মীদের নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা খুবই বিরল, তাই এই রায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিক্রেতা পরিবারের আইনজীবীরা রায়ের কঠোরতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, শাস্তি অপর্যাপ্ত এবং “অল্পই যথেষ্ট” বলে মন্তব্য করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, আইন অনুসারে হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিকাণ্ডের ন্যূনতম শাস্তি দশ বছর, তবে তারা কমপক্ষে ত্রিশ বছর বা তার বেশি প্রত্যাশা করেছিল।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০-এ নগ্রবুহ গ্রামকে সশস্ত্র সৈন্য ও স্থানীয় ফুলানি মিলিশিয়া আক্রমণ করে, বাসিন্দাদের গুলি করে এবং বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ১৩টি শিশুর প্রাণও নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে।
আক্রমণের পর, ক্যামেরুন সরকার প্রথমে ঘটনাটিকে অস্বীকার করে, তবে আন্তর্জাতিক চাপ এবং রাষ্ট্রপতি পল বিয়া দ্বারা আদেশিত তদন্তের ফলাফলের পর স্বীকারোক্তি দেয়। এই স্বীকারোক্তি দেশের ইংরেজি‑ভাষী অঞ্চলগুলোতে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৈন্যদের পাশাপাশি, একই মামলায় একটি মিলিশিয়া সদস্যকেও একই অপরাধের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তার ওপরও হত্যাকাণ্ড, অগ্নিকাণ্ড এবং সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
বিক্রেতা পরিবারের একজন আইনজীবী রায়কে “সহজে মেনে নেওয়া যায় না” বলে উল্লেখ করে, শাস্তি এত কম হওয়ায় এটি “একটি বন্ধুত্বপূর্ণ রায়” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই রায়ের ফলে গ্রামবাসীর ওপর সৃষ্ট ভয় এবং আঘাতের পরিমাণ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
সৈন্যদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তাদের ক্লায়েন্টরা শুধুমাত্র দায়িত্ব পালন করছিল এবং আদেশ অনুসরণ করছিল। তবে আদালত এই যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে, ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি আরোপ করেছে।
এই রায়ের পর, অভিযুক্ত সৈন্য ও মিলিশিয়া সদস্যের আইনজীবীরা আপিলের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং স্থানীয় নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী রায়ের বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নজরদারি চালিয়ে যাবে।
ক্যামেরুনের ইংরেজি‑ভাষী অঞ্চলগুলোতে দশ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের মধ্যে, এই রায়টি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনি দায়িত্ব আরোপের একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের প্রতিরোধে একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে।



