বুরকিনা ফাসোর বেলাঙ্গা, চিটাও, তানজারি ও নারে অঞ্চলে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে চার দিন ধারাবাহিকভাবে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী সেনা ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়, যার ফলে সৈন্য, সাধারণ নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাণহানি হয়েছে। এই অঞ্চলগুলো দেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।
আল-কায়েদা ও আইএসের সঙ্গে যুক্ত কয়েকশো জঙ্গি গুলিবিদ্ধ স্থানে প্রবেশ করে, অপ্রত্যাশিতভাবে গুলিবর্ষণ চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষতি বাড়িয়ে তুলেছে। গুলিবর্ষণ ছাড়াও বিস্ফোরক ব্যবহার এবং গৃহবন্দি করার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
আক্রমণগুলো ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিন ধারাবাহিকভাবে ঘটেছে, প্রতিটি ঘাঁটিতে একাধিক গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের শাসনে এই নিরাপত্তা সংকট নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে; তার শাসনকাল ২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে চলছে। ত্রাওরের সরকার জোর দিয়ে বলছে যে জঙ্গি গোষ্ঠীর দমনই দেশের স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।
ত্রাওরকে তার সমর্থকরা “আফ্রিকার চে গুয়েভারা” বলে সম্বোধন করে, এবং তিনি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ফরাসি সামরিক চুক্তি বাতিল করে রাশিয়া সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সংকেত দিয়েছেন। রাশিয়া সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে তিনি রাশিয়া সরকারের অনুমোদিত বেসামরিক ও সামরিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম শুরু করার দাবি করেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ত্রাওরের পদক্ষেপকে স্বৈরাচারী হিসেবে সমালোচনা করলেও, ত্রাওরের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়নি; তিনি সৌদি আরবের প্রস্তাবিত ২০০টি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে, পরিবর্তে স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের অঙ্গীকার করেছেন। এই সিদ্ধান্ত তাকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবিক উন্নয়নের সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বুরকিনা ফাসোর নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কিছু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা অযথা গুলিবর্ষণ ও গৃহবন্দি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানান, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে জঙ্গি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যেখানে আল-কায়েদা ও আইএসের উপস্থিতি ক্রমবর্ধমান। এই নিয়ন্ত্রণের ফলে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
ফ্রান্সের সম্ভাব্য গোপনীয় নীতি ও রাশিয়া সরকারের ওয়াগনার গোষ্ঠীর সামরিক সহায়তা নিয়ে দেশীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। রাশিয়া সরকারের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ চুক্তি আলোচনা চললেও, জঙ্গি গোষ্ঠীর আক্রমণ ধারাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
বুরকিনা ফাসোর সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে সোনার খনি, ত্রাওরের শাসনকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখে, তবে জঙ্গি হামলার ধারাবিকতা এই পরিকল্পনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। খনি শিল্পের আয় দেশের বাজেটের বড় অংশ গঠন করে, তাই নিরাপত্তা স্থিতিশীলতা সরাসরি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন, নিরাপত্তা সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ত্রাওরের শাসন দুর্বল হয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন ইতিমধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমানে বুরকিনা ফ



