কেশব মহারাজ দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র ১৫ সদস্যের দলকে নেতৃত্ব দিয়ে মার্চ ১৫ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পাঁচটি টি২০ আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা এই দলটি শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।
দল গঠনে পাঁচজন অপ্রকাশিত খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কোনো আইপিএল‑সংযুক্ত খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই নীতি নতুন প্রতিভা উন্মোচনের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের বিশ্রাম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যাটসম্যান কনর এস্টারহুইজেন, ডিয়ান ফোরেস্টার এবং জর্ডান হারম্যানকে দেশীয় টি২০ প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাদের অন্তর্ভুক্তি দলকে তাজা শক্তি ও আক্রমণাত্মক বিকল্প সরবরাহ করবে।
বহুমুখী খেলোয়াড় ইথান বশকেও স্কোয়াডে স্থান দেওয়া হয়েছে। বশের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকের দক্ষতা দলকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে এবং মাঝারি অর্ডারকে শক্তিশালী করবে।
কিশোর দ্রুতগামী নকোবানি মোকোয়েনা, যিনি সাম্প্রতিক এসএ২০ মৌসুমে পার্ল রয়্যালসের হয়ে ১০টি ম্যাচে ১৩টি উইকেট নিয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেন, তাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার গড় অর্থনীতি ৯.৬২ ছিল, যা তরুণ দ্রুতগামীদের মধ্যে তার প্রভাবশালী পারফরম্যান্সকে নির্দেশ করে।
প্রধান কোচ শুক্রি কনরাড নকোবানির সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, “এসএ২০-তে তার পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি একটি উত্তেজনাপূর্ণ তরুণ গতি যিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এই সিরিজ তার জন্য আন্তর্জাতিক পরিবেশে নিজেকে প্রমাণ করার আদর্শ সুযোগ।” এই মন্তব্য দলকে নতুন মুখকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
মহারাজের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ স্কোয়াডের দুইজন সদস্য, বামহাতের স্পিনার জর্জ লিন্ডে এবং জেসন স্মিথ, এই ট্যুরে অংশ নেবেন। তাদের উপস্থিতি দলকে টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দিক থেকে সমর্থন করবে।
দ্রুতগামী গেরাল্ড কুটজি, যিনি অক্টোবর ২০২৫-এ নামিবিয়া বিরোধী শেষ টি২০ ম্যাচে অংশ নেন, তিনি এই সিরিজে পুনরায় টি২০ শাটলবলে ফিরে আসছেন। তার ফিরে আসা দলের গতি ও আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সমৃদ্ধ করবে।
ব্যাটসম্যান টনি ডি জোরজি, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ডানহাতের হ্যামস্ট্রিং আঘাত থেকে সেরে উঠে আবার মাঠে ফিরে আসছেন, তিনি দলের ব্যাটিং শক্তিকে পুনরায় জোরদার করবেন। তার পুনরুদ্ধার দলকে অতিরিক্ত স্থিতিশীলতা প্রদান করবে।
সিরিজটি ডাবল‑হেডার ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে; প্রতিটি ম্যাচে দুপুরে দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র নারী দল এবং সন্ধ্যায় পুরুষ দল একসাথে খেলা হবে। এটি দুই জাতীয় দলের জন্য একসাথে একটি দ্বিপাক্ষিক ডাবল‑হেডার প্রদর্শনের প্রথম উদাহরণ।
কনরাড ট্যুরকে এমন একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন, যেখানে বিশ্বকাপের বেশিরভাগ নিয়মিত খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের পর দেশে ফিরে যাবে, ফলে নতুন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পরিবেশে প্রবেশের দরজা খুলে যাবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “এই সিরিজের মাধ্যমে ফ্রিঞ্জ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের চমৎকার সুযোগ তৈরি হবে।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে ট্যুরটি দলের ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সার্বিকভাবে, মার্চের শেষ সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই পাঁচটি টি২০ ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র জন্য নতুন প্রতিভা উন্মোচন, অভিজ্ঞদের পুনরায় সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিবেশে দলকে প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হবে।



