প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান আজ ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পূর্বসন্ধ্যায় দেশের ভাষা বৈচিত্র্য রক্ষা, বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা দাবি করেছেন। তিনি এই বার্তা দেশের সর্বস্তরের নাগরিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন।
তারেক রহমান ভাষা বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বললেন, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলা ভাষার সঠিক চর্চা ও বিকাশ অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা সংরক্ষণ কেবল একাডেমিক কাজ নয়, তা জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, আবুল বারকাত, আবদুস সালাম, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বারসহ বহুজনের আত্মত্যাগ বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেছেন।
তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর, ২০২৪ সালের গণউত্থানের সাহসী অংশগ্রহণকারী এবং গণতন্ত্রের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা সকল ব্যক্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে, তাদের অবদানকে দেশের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ভিত্তি গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে, এই ঐতিহাসিক সংগ্রামই স্বাধীনতা যুদ্ধের পথপ্রদর্শক এবং বাংলাদেশকে স্বাধীন জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছে বলে জোর দিয়েছেন।
বক্তব্যের ধারায় তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শহীদদের ত্যাগের সার্থকতা বজায় রাখতে একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন জরুরি, যেখানে স্বাধীনতা রক্ষা, প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহি এবং জনগণ সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
তারেক রহমান বিশ্বব্যাপী সকল ভাষা সম্প্রদায়, বিশেষত বাংলা ভাষাভাষীদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে, মাতৃভাষার সঠিক চর্চা ও বিকাশে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভাষা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিপক্ষের কিছু নেতা ভাষা শহীদদের সম্মান জানিয়ে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তারা ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক সংলাপের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট, কারণ ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাসকে বর্তমান সরকারের জাতীয়তাবাদী নীতির সঙ্গে যুক্ত করে ভোটারদের মধ্যে সাংস্কৃতিক গর্ব জাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ভাষা নীতি ও শিক্ষা সংস্কারকে মূল এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের ভাষা শহীদ দিবসের বার্তা ভাষা বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাংলা গর্ব ও গণতন্ত্রের সুরক্ষার প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছে এবং দেশের ঐতিহাসিক ত্যাগকে ভবিষ্যৎ নীতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।



