25.4 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশেরপুর-জামালপুর ফেরিঘাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল ধাক্কায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

শেরপুর-জামালপুর ফেরিঘাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল ধাক্কায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

শেরপুর সদর উপজেলার চরমুছারিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ারচর গ্রাম থেকে জামালপুর পৌর এলাকায় বাস করা ৬০ বছর বয়সী আইয়ুব ফকির এবং তার ৩২ বছর বয়সী পুত্র দেলোয়ার, জুমা নামাজের পর মোটরসাইকেলে গন্তব্যে ফিরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন। দুর্ঘটনা ঘটেছে শেরপুর-জামালপুর ফেরিঘাট ব্রিজের নিকটবর্তী পুলিশ চেকপোস্টের কাছে, যেখানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য গাড়ি থামানো হয়।

আইয়ুব ফকির এবং দেলোয়ার উভয়ই গ্রামভিত্তিক বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে জামালপুর শহরে বসবাস করতেন। তাদের বাড়ি শেরপুরের চরমুছারিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ারচর এলাকায় অবস্থিত। ওই দিন সন্ধ্যায় তারা দুইজনই মোটরসাইকেলে জামালপুর থেকে গ্রাম বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। নামাজ শেষ করার পর পুনরায় জামালপুরে ফিরে যাওয়ার সময় চেকপোস্টে থামতে নির্দেশ পাওয়া যায়।

মোটরসাইকেলটি চেকপোস্টে থামানোর পর, পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ির ওপর আঘাত করে। ট্রাকের ওজন ও গতি বিবেচনা করলে ধাক্কা তীব্র হয় এবং দুইজনেরই প্রাণহানি ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দ্রুত জরুরি সেবা জানায় এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে।

মোটরসাইকেলে আরেকজন শিশু ছেলেও ছিল, যে গাড়ির ধাক্কা থেকে গুরুতর আঘাত পায়। শিশুটিকে দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়, তবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁঞা ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তদন্ত চালু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনা শেরপুর ও জামালপুর জেলার সীমানার কাছাকাছি, প্রায় দশ গজ দূরে ঘটায়, ফলে কোন থানার অধীনে মামলা দায়ের হবে তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বিষয়টি পর্যালোচনা করে যথাযথ থানায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেবে।

মিজানুর রহমান ভূঁঞা উল্লেখ করেন, ট্রাক চালকের গতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাবই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, ট্রাকের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করা হবে।

আহত শিশুর চিকিৎসা অবস্থা নিয়ে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে যে, তার শ্বাসপ্রশ্বাসে অস্বস্তি এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ রয়েছে, ফলে শল্যচিকিৎসা ও রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন। চিকিৎসা দল শিশুর অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই দুর্ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং ট্রাফিক নিরাপত্তা সম্পর্কে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। শেরপুর ও জামালপুর দু’জেলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং ফলাফল জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments