রংপুরের বাদারগঞ্জে ৩১ বছর পর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শাফি উদ্দিনকে র্যাব-১৩ দলের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। ৬০ বছর বয়সী শাফি উদ্দিন ১৯৯৫ সালে মিঠাপুকুর উপজেলা, কহমার কুরশা গ্রামে জমি বিরোধে তার চাচাতো ভাইকে হত্যা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন।
গ্রেপ্তারটি বৃহস্পতিবার বিকেলে বাদারগঞ্জ পৌরসভার পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি গসিপের ভিত্তিতে র্যাবের দল এক তল্লাশি চালিয়ে সম্পন্ন করে। অপারেশনটি গোপন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় এবং শাফি উদ্দিনকে নিরাপদে আটক করা হয়।
মিথাপুকুরে জমি নিয়ে পারিবারিক বিবাদে চাচাতো ভাইকে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগে শাফি উদ্দিনকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়, তবে তিনি পরবর্তীতে পালিয়ে গিয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন নাম ও পরিচয়ে বাদারগঞ্জে বসবাস করেন। তার এই গোপন পরিচয়গুলো শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পায় না পর্যন্ত তিনি সৎকারে লুকিয়ে ছিলেন।
মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার পর, সাক্ষী বিবৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত শাফি উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। তবে দণ্ডের কার্যকরী হওয়ার আগে তিনি আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান এবং তখন থেকে তিনি অপরাধমূলক রেকর্ডে ‘ফুগিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
র্যাব-১৩ দলের অতিরিক্ত সুপারইন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ বিপ্লব কুমার গোস্বামি এই গ্রেপ্তার সম্পর্কে একটি প্রেস রিলিজে জানিয়েছেন যে, টিপ-অফের পর দলটি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শাফি উদ্দিনকে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাফি উদ্দিন স্বীকার করেন যে, তিনি ১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাদারগঞ্জে বিভিন্ন পরিচয়ে বাস করে আসছেন। তার এই গোপন জীবনধারা তাকে প্রায় তিন দশক ধরে আইন শাসন থেকে দূরে রাখে।
শিকারের পরিবার সম্প্রতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে আদালতের দণ্ডের কার্যকরী হওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। তারা দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা শেষে অবশেষে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছে।
গ্রেপ্তারটি র্যাবের কার্যকরী তদারকি ও গোয়েন্দা তথ্যের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। র্যাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে লুকিয়ে থাকা অপরাধীর ধরা কঠিন হলেও তথ্যভিত্তিক অপারেশন সফল হয়েছে।
আইনি দিক থেকে শাফি উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এখন পুনরায় আদালতে চলবে। মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে র্যাবের অপরাধমূলক দায়িত্বে দৃঢ়তা ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয় জনগণও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
শিকারের পরিবার ও স্থানীয় সমাজ এখন ন্যায়বিচারের পূর্ণতা প্রত্যাশা করছে, আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী গোপন অপরাধীর ধরা ও শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে হবে।



