25.4 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগোপালগঞ্জে ৫০ বিঘা পেঁয়াজের ফসল বিষ প্রয়োগে নষ্ট, ৩০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

গোপালগঞ্জে ৫০ বিঘা পেঁয়াজের ফসল বিষ প্রয়োগে নষ্ট, ৩০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় রাতের অন্ধকারে সন্দেহভাজনদের দ্বারা ৫০ বিঘা পেঁয়াজের ফসলের ওপর বিষ প্রয়োগের অভিযোগে অন্তত ৩০ কৃষকের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি ঘটেছে। ফসলের গাছগুলোতে গুঁড়ি পচা দেখা দিলেই ক্ষতি নিশ্চিত হয় এবং গাছগুলো দ্রুত শুকিয়ে নষ্ট হতে থাকে।

শৌলকোপা বিল এলাকায় এই মৌসুমে কয়েক শ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়। স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকরা ভাল ফলনের আশায় জমিতে নিয়মিত সেচ, সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করে পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে কয়েক দিন আগে রাতের সময়ে অজানা ব্যক্তিরা বিষ প্রয়োগের অভিযোগে ফসলের ক্ষতি ঘটেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশই ব্যাংক ঋণ, ধার-দেনা এবং এনজিও তহবিলের উপর নির্ভর করে পেঁয়াজ চাষে বিনিয়োগ করেছিল। ফসল কাটার সময় মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় ক্ষতি তাদের আর্থিক অবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব এখন দূরের কথা, পরিবারিক জীবনের চালনা কীভাবে চালিয়ে যাবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বশার মোল্যা বলেন, তিনি ও অন্যরা অন্য এলাকার জমি ভাড়া নিয়ে পেঁয়াজ চাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রতি বিঘা খরচ করেছিল। কয়েক দিন পরই পেঁয়াজ তোলার প্রস্তুতি নেয়ার সময় গাছগুলো শুকিয়ে গিয়ে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

ঘটনার পর মুকসুদপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্যারাকুয়েট জাতীয় আগাছানাশক ব্যবহারের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা গাছের ধীরে ধীরে শূকিয়ে মারা ঘটাতে পারে। কৃষি কর্মকর্তারা ছত্রাকনাশক স্প্রে, পটাশ প্রয়োগ এবং অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে অবশিষ্ট ফসলের ক্ষতি কমানো যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও বিষয়টি জানার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সমগ্র সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে কৃষকরা পুনরায় চাষ চালিয়ে যেতে পারেন।

পুলিশ মুকসুদপুর থানা ঘটনাটির তদন্তে তৎপর। থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রমাণ সনাক্ত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে।

একই সময়ে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হান্নু শেখকে বিবাদী করে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়বস্তু ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

স্থানীয় কৃষক সমিতি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বড় আর্থিক ক্ষতি দ্রুত পূরণ করা কঠিন বলে তারা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ঋণদাতাদের কাছে পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে। ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলো এখনও এই অনুরোধের উপর সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না, ফলে কৃষকরা আর্থিক দায়বদ্ধতার মুখে আটকে আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিক কীটনাশক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও নজরদারি বাড়ানো হবে। এছাড়া, সন্দেহজনক বিষের ব্যবহার চিহ্নিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে যথাযথ শাস্তি দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা জরুরি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments