ঢাকার জাতীয় সম্মেলন হলের সামনে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সরকারকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সুসংহত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একুশের চেতনা—গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা—দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ দেশের পুনর্গঠিত গণতন্ত্রের ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের ৭২তম বার্ষিকী স্মরণে ১৯৫২ সালের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে মাতৃভাষা বাংলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে, যা একুশের চেতনার বৈশ্বিক প্রসারকে নির্দেশ করে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলা ভাষা জাতীয় আত্মপরিচয়ের মূল স্তম্ভ এবং এর সঠিক ব্যবহার ও চর্চা সমাজের সব স্তরে নিশ্চিত করা দরকার। ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন স্তরে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন চালু করবে, যাতে ভাষাবৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, দেশের স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক ভবিষ্যৎ গড়তে সকল ভাষা শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বিত কাজের আহ্বান জানান। তিনি বিশেষ করে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষা, মিডিয়া ও সরকারি নথিতে মানদণ্ড স্থাপন করার পরিকল্পনা উল্লেখ করেন।
বিপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব স্বীকার করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই ঘোষণার রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট; গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার নির্বাচনী ক্যালেন্ডারকে প্রভাবিত করতে পারে এবং নীতি নির্ধারণে অধিক স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণের দাবি বাড়াবে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভাষা দিবসের সঙ্গে যুক্ত এই প্রতিশ্রুতি সরকারকে জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সংহতি জোরদার করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনায় ভাষা সংরক্ষণ তহবিল গঠন, ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে ভাষা গবেষণা ও শিক্ষার উন্নয়ন, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ভাষা অধিকার রক্ষার জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপগুলোকে ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারকে সমর্থন জানিয়ে ভাষা দিবসের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা এবং বহুভাষিক সমাজ গড়ে তোলাই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের মাগফেরাতের প্রার্থনা করে, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করেন এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে এই ঐতিহাসিক দিনে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।



