একটি অনলাইন সাইট প্রথম আলোর নামে তৈরি হয়ে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন গ্রহণের দাবি করে, যা সরকারী অনুমোদন ছাড়া প্রকাশিত। সাইটটি প্রোথোমালো.online/family-card/ ঠিকানায় পাওয়া যায় এবং এতে আবেদন ফর্ম ও নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের মতে, এই সাইটের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ভুয়া, বিভ্রান্তিকর প্রচার।
ফ্যামিলি কার্ডের ধারণা বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ, যেখানে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা বা সমমানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারে উল্লেখিত হয় এবং দলটি সরকার গঠনের পর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।
কমিটি গঠন শেষে, দেশের আটটি বিভাগে প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালুর ভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনো আবেদন গ্রহণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা পোর্টাল প্রকাশিত হয়নি। এই ফাঁককে কাজে লাগিয়ে কিছু অপরিচিত ব্যক্তি প্রথম আলোর নামে একটি সাইট চালু করে আবেদন আহ্বান জানিয়েছে, যা নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞাপন বা অনলাইন পোর্টালের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই সাইটটি সম্পূর্ণভাবে ভুয়া এবং প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। পূর্বেও প্রথম আলোর নামে অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তাই পাঠকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রথম আলো তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হলে, সংশ্লিষ্ট সাইটের লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা জরুরি।
ফ্যাক্ট‑চেকিং প্ল্যাটফর্ম রিউমর স্ক্যানারও একই সাইটের নাম ব্যবহার করে ভুয়া প্রচারণা প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য এখনো কোনো আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি এবং প্রথম আলোও এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। এই তথ্যের ভিত্তিতে রিউমর স্ক্যানার সাইটটিকে ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছে।
ভুয়া সাইটের প্রভাব রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিএনপি যদি এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারকে যথাযথভাবে মোকাবিলা না করে, তবে ভোটারদের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে, প্রথম আলোর নাম ব্যবহার করে করা এই ধরনের প্রতারণা মিডিয়া সংস্থার সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কমাতে পারে।
সার্বিকভাবে, নাগরিকদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সরকারি ঘোষণার বাইরে কোনো আবেদন ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং শুধুমাত্র প্রথম আলোর অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই ধরনের ভুয়া সাইটের উপস্থিতি ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে।



