চট্টগ্রাম নগরে গত বৃহস্পতিবার রাতে উড়ালসড়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরি করার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন মোহাম্মদ সোহেল ও রবি চৌধুরীকে কাজীর দেউড়ি ও হাটহাজারী থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে শহর শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা প্রবাসী শফিউল আলম ভাড়া গাড়ি নিয়ে বায়েজিদ বস্তামীর বাসার দিকে উড়ালসড়ে রওনা হন। গাড়িটি টায়গার পাস এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি নোহা গাড়ি পথ আটকায় এবং চারজন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নামেন। তারা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে ওয়াকিটকি ব্যবহার করে শফিউল আলমের কাছ থেকে হাতে থাকা বালা, গলার হার, আংটি সহ প্রায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণ, দুইটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ নিয়ে যায়।
শফিউল আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে খুলশী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার শেখ শরীফুল ইসলাম জানালেন, মামলা দাখিলের পর গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং কাজীর দেউড়ি থেকে প্রধান সন্দেহভাজন সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণ বিক্রির জন্য আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
সোহেলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হাটহাজারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবি চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবি চৌধুরীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৭০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা যায়। উভয় সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় পূর্বে স্বর্ণ চুরির তিনটি মামলা রয়েছে।
শেখ শরীফুল ইসলাম আরও জানান, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চুরি করা হচ্ছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল এই অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে তদন্ত দল দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, শফিউল আলমের কাছ থেকে চুরি করা স্বর্ণ ও ইলেকট্রনিক্সের মোট মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। গৃহীত স্বর্ণের বেশিরভাগই বিক্রি হয়ে নগদে রূপান্তরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাড়ি থামানোর সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে উপস্থিত চারজনের মধ্যে দুইজনের হাতে ওয়াকিটকি ছিল, যা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে সহায়তা করেছিল।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অধীনে, গ্রেপ্তারকৃত দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হবে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে, গোয়েন্দা পুলিশ অন্যান্য সম্ভাব্য সহায়ক ও সহকর্মীদের সনাক্ত করার জন্য অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনা চট্টগ্রাম শহরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে করা অপরাধের নতুন উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে গাড়ি থামানোর প্রক্রিয়া ও পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে, প্রবাসী সম্প্রদায়কে সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা অনধিকারিক পরিচয় ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকে।
অপরাধের শিকার শফিউল আলমের পরিবার এখন আইনি সহায়তা গ্রহণের পাশাপাশি চুরি করা সম্পদের পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশও শিকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত রক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর, চট্টগ্রাম শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর পুনর্বিবেচনা শুরু হয়েছে এবং ডিবি পুলিশ পরিচয়ে করা অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করবে।



