আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আগামীকাল শনিবারে অনুষ্ঠিত হবে; এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে সাজিয়ে শূন্যদুপুরে ১২:০১ টায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হবে। একই দিনে প্রভাতফেরি এবং আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের সমাধিতে ফুল অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানাতে জনগণ অংশগ্রহণ করবে।
মিনারটি নতুন রঙে রাঙানো হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে আলপনা ও আলো সাজানোর কাজ চলছে। পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য একাধিক স্তরের ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু রাস্তায় ডাইভারশনও নির্ধারিত হয়েছে।
সিকিউরিটি প্রস্তুতি তদারকি করতে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান একত্রে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের পর কমিশনার শেজ্জাত আলী জানালেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের আয়োজনের জন্য কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগ নেই, তবে শহীদ মিনার ও ঢাকাকেন্দ্রিক ১৫,০০০ পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইনার পেরিমিটার ও আউটার পেরিমিটার নির্ধারণ করে সদস্য মোতায়েন, পুরো এলাকা কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হবে। এই ব্যবস্থা শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মিনারের পবিত্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
কমিশনারের বক্তব্যে জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে, শহীদ মিনার এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে। একই সঙ্গে র্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমানও নিরাপত্তা জোরদারির ব্যাপারে বিস্তারিত জানান।
র্যাবের পরিকল্পনায় বোমা ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন অন্তর্ভুক্ত। শহীদ মিনার এলাকায় মাত্র তিনশতাধিক র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, পাশাপাশি পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নজরদারি করা হবে।
আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনতা উপস্থিত হবে; এই অনুষ্ঠানটি প্রভাতফেরি শেষে অনুষ্ঠিত হবে এবং নিরাপত্তা দলগুলো একই সময়ে উপস্থিত থাকবে।
মাতৃভাষা দিবসের উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে; ঢাকার বাইরে অন্যান্য শহরেও পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সমান স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখ করেছে, নিরাপত্তা কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিকদের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও গৌরবময় অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা হবে। সকল অংশগ্রহণকারীকে অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো অশান্তি বা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে।
প্রস্তুতি শেষের দিকে পৌঁছেছে, নিরাপত্তা দলগুলো সর্বশেষ চেকলিস্ট অনুসারে কাজ সম্পন্ন করেছে এবং আগামীকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে প্রস্তুত।



