ওয়াশিংটন ডিসির নতুন গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্বোধনী সভায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তুরস্কের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই বৈঠকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তুরস্কের এই ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পায়।
‘বোর্ড অফ পিস’ বৈঠকে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক মডেল, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীর গঠন এবং মানবিক সহায়তার সমন্বয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো গাজার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সহায়তা কীভাবে প্রদান করা হবে তা নির্ধারণের চেষ্টা করে। তুরস্কের উপস্থিতি এবং ফিদানের মন্তব্যগুলো বৈঠকের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ফিদান মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক গাজার মানবিক জরুরি সহায়তা থেকে শুরু করে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ পর্যন্ত সব ধাপে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, গাজার প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কাজে লাগানো হবে। তুরস্কের এই প্রতিশ্রুতি গাজার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি দক্ষ স্থানীয় পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা ফিদান বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তুরস্ক এই নতুন পুলিশ ইউনিটের প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরিতে নেতৃত্ব গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান। তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক দল গাজার নিরাপত্তা কাঠামোকে আধুনিকীকরণে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোও গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। কিছু দেশ মানবিক সহায়তার ত্বরান্বিত বিতরণে জোর দেয়, অন্যদিকে কয়েকটি দেশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাহিনীর গঠনকে অগ্রাধিকার দেয়। তুরস্কের প্রশিক্ষণ দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাবটি বৈঠকের আলোচনায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এবং অন্যান্য দেশগুলোর কাছেও সমর্থন অর্জন করে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তুরস্কের এই সক্রিয় ভূমিকা গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তার কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তুরস্কের গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে অঞ্চলীয় সংঘাতের ঝুঁকি হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা যায়। একই সঙ্গে, তুরস্কের এই উদ্যোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গাজার নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা শক্তিশালী হতে পারে।
ভবিষ্যতে ‘বোর্ড অফ পিস’ গঠিত হবে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি নির্ধারণে। তুরস্কের প্রশিক্ষণ মিশন এবং অবকাঠামো সহায়তা প্রকল্পগুলো পরবর্তী মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই উদ্যোগগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সমর্থন প্রদান করবে।
এই ঘোষণার পর গাজার নাগরিকদের মধ্যে তুরস্কের প্রতি আশার সঞ্চার দেখা যায়, বিশেষত নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবার উন্নয়নে তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে। তুরস্কের সরকার ইতিমধ্যে গাজার জন্য জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য সামগ্রীর শিপমেন্ট প্রস্তুত করেছে বলে জানানো হয়েছে। তুরস্কের এই বহুমুখী সহায়তা গাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধারের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গাজার শান্তি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তুরস্কের পূর্ণ সহযোগিতা, মানবিক সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ দায়িত্ব গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অফ পিস’ বৈঠকের মূল আলোচনার অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গাজার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় তুরস্কের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হতে পারে।



