জার্মানির প্রাক্তন ফুটবল তারকা মেসুৎ ওজিল ২০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে ফুটবল ফাইনাল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণে অংশ নেন। একই দিনে তিনি একটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামেন, যেখানে তিনি নিজে গোল করে উপস্থিত শরণার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন।
ক্যাম্পে হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী একত্রিত হয়ে ওজিলের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন। মাঠের চারপাশে ভিড়ের স্রোত গড়ে ওঠে, উল্লাসের সুরে ভরা পরিবেশে সবাই তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য লাইন করে।
ফাইনাল ম্যাচের শেষে ওজিল শীর্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলিয়ে পুরস্কার প্রদান করেন। পুরস্কার বিতরণে তিনি প্রত্যেককে উষ্ণ অভিবাদন জানিয়ে, শরণার্থীদের কঠিন সময়ে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রীতি ম্যাচে ওজিল নিজে জার্সি পরে মাঠে নেমে গেছেন। ম্যাচের মাঝখানে তিনি এক মুহূর্তে গোল করেন, যা দর্শকদের মধ্যে উল্লাসের ঢেউ তুলতে যথেষ্ট ছিল। গোলের পর তিনি গোলকারী খেলোয়াড়কে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানিয়ে, শরণার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া করেন।
এই সফরে তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (TIKA) এর সহায়তায় পরিচালিত হাসপাতাল, স্কুল এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিদর্শনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তুরস্কের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রমিজ সেন, TIKA সভাপতি আবদুল্লাহ এরেন এবং TIKA বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আলি আরমান ওজিলের সঙ্গে ক্যাম্পের বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
TIKA এর উদ্যোগে ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য হাসপাতাল ও স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি এনে দিচ্ছে।
ওজিলের উপস্থিতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। মাঠে তার সরাসরি অংশগ্রহণ এবং গোল করার মুহূর্ত শরণার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্যাম্পের বাসিন্দারা তার সঙ্গে ছবি তোলার পাশাপাশি তার উষ্ণ আলিঙ্গনকে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই সফর তুর্কি-বাংলা সহযোগিতার মাধ্যমে শরণার্থী ক্যাম্পে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শরণার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



