চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) গতকাল দু’জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, যারা জাল গোয়েন্দা ছদ্মবেশে ডুবাইতে বসবাসকারী একজন বাংলাদেশীর গয়না চুরি করে বিক্রি করেছিল। গ্রেফতারের আগে কাজির দেউড়ি ও হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তল্লাশি চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ৪০ বছর বয়সী মোঃ সোহেল, যাকে সোহেল রানা নামেও চেনা যায়, এবং ৪১ বছর বয়সী উত্তম চৌধুরী, যাকে রাবি চৌধুরী উপনামেও পরিচিত।
সোহেল রানা ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজির দেউড়িতে পুলিশ দল দ্বারা আটক হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হাটহাজারীর ইচ্ছাপুরে অবস্থিত আমানত শাহ জুয়েলার্সে তল্লাশি করা হয়, যেখানে উত্তম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চুরি করা স্বর্ণ বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত ২.৫০ লক্ষ টাকা নগদে জব্দ করা হয়।
উত্তমের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হাটহাজারি উপজেলা এসএম শপিং সেন্টারের বন্ধু সুনদর জুয়েলার্সে অনুসন্ধান চালানো হয়। সেখানে মোট ৬৯.৩৯ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা যায়, যা চোরদের দ্বারা চুরি করা গয়নার অংশ বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চোরাচালানটি ১৪ ফেব্রুয়ারি ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত হয়। গাড়ি চালককে ডুবাই থেকে ফিরে আসার পথে গ্যাংটি থামিয়ে গয়না ও নগদ সম্পদ চুরি করে। ঘটনাস্থলে গাড়ি থামিয়ে নেওয়ার সময় গ্যাংটি গোয়েন্দা ছদ্মবেশে উপস্থিত ছিল, ফলে শিকার ব্যক্তি প্রথমে তাদেরকে আইনগত কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরূপে ভেবেছিল।
ডিবি (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার শারিফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি এবং তল্লাশি ফলাফল থেকে গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত করার কাজ চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সোহেল রানা পূর্বে তিনটি অপরাধমূলক মামলায় জড়িত ছিলেন, যা বর্তমান তদন্তে অতিরিক্ত প্রাসঙ্গিকতা যোগ করে।
পুলিশের মতে, গ্যাংটি চুরি করা স্বর্ণকে স্থানীয় জুয়েলারি দোকানে বিক্রি করে দ্রুত নগদ অর্থে রূপান্তরিত করেছিল। জব্দকৃত স্বর্ণের ওজন ও নগদের পরিমাণ থেকে দেখা যায়, চুরি করা সম্পদের মোট মূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকার বেশি হতে পারে।
অধিক তদন্তে গ্যাংয়ের অন্যান্য সহায়ক ও লেনদেনকারী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে ডিবি দল গ্যাংয়ের কাঠামো ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত গ্রেফতার ও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শারিফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গ্যাংয়ের কার্যক্রমের পেছনে জাল গোয়েন্দা পরিচয় ব্যবহার করে শিকারকে ধোঁকা দেওয়া এবং দ্রুত লুকিয়ে যাওয়া ছিল মূল কৌশল। এই ধরনের ছদ্মবেশের অপব্যবহার ভবিষ্যতে রোধে জনসাধারণকে সতর্ক করার নির্দেশও তিনি দেন।
চট্টগ্রাম পুলিশের তল্লাশি ও গ্রেফতার কার্যক্রমের ফলে চুরি করা স্বর্ণের বড় অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা শিকার পরিবারের ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। তবে শিকার ব্যক্তি এখনও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাননি, তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাকি সম্পদের পুনরুদ্ধার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ডিবি (দক্ষিণ) দল ভবিষ্যতে গ্যাংয়ের অবশিষ্ট সদস্যদের ধরা এবং চুরি করা সম্পদের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তল্লাশি চালিয়ে যাবে। এছাড়া, জাল গোয়েন্দা ছদ্মবেশে অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও গ্যাংসামান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ছদ্মবেশের অপব্যবহার রোধে যথাযথ নজরদারি ও তদারকি নিশ্চিত করা যায়।



