স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একটি মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সামনে স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি নির্মূলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এখন থেকে রোগীর দরজায় সরাসরি চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেবে।
এই ঘোষণাটি মনোহরদীর একটি সমাবেশে করা হয়, যেখানে স্বাস্থ্য নীতি সংক্রান্ত আলোচনা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং রোগীর আর্থিক বোঝা কমানো।
বকুল বলেন, রোগীকে আর ডাক্তার অনুসরণ করতে হবে না; এখন ডাক্তারই রোগীর কাছে আসবে। তিনি এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন যে, স্বাস্থ্যসেবা এখন নাগরিকের ঘরে পৌঁছাবে, যাতে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষও সুবিধা পায়।
এই সংস্কার পরিকল্পনা দেশের সমৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নকে একসাথে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বীরদের স্মরণ করে দেশের উন্নয়নে সকলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বকুল উল্লেখ করেন, সরকার তার ভোটদাতা এবং যারা ভোট দেয়নি তাদের দুজনের প্রতি সমান দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করবে। তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করা হবে।
সিন্ডিকেট নির্মূলের জন্য কঠোর তদারকি, অডিট এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অবৈধ গোষ্ঠী যা রোগীর খরচ বাড়ায় বা সেবা বিলম্বিত করে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়মিত পরিদর্শন বাড়াবে, যাতে কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করা যায়। তদুপরি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে।
ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ কমানো হবে। সরবরাহ চেইনে জালিয়াতি রোধে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।
স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে রোগীর অভিযোগ দ্রুত শোনা এবং সমাধান করা সম্ভব হবে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো অনিয়মের তথ্য তৎক্ষণাৎ মন্ত্রণালয়কে জানানো যাবে।
বকুলের এই ঘোষণাটি তার পূর্বের প্রতিশ্রুতিগুলোর ধারাবাহিকতা, যেমন ৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য খাতের পরিদর্শন পরিকল্পনা এবং ২৩ জানুয়ারি মেডিকেল কলেজ সম্প্রসারণের ঘোষণা। তিনি টোবাকো নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের সাথেও এই সংস্কারকে যুক্ত করেন।
জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের তথ্য সরাসরি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন বা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে জানাবে। এভাবে সমগ্র সমাজের সহযোগিতায় সংস্কারকে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সিন্ডিকেটের উচ্ছেদ রোগীর নিজস্ব ব্যয় কমাবে এবং পাবলিক স্বাস্থ্য সেবার প্রতি আস্থা বাড়াবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি এবং কার্যকরী তদারকি প্রয়োজন হবে।
মন্ত্রীর মতে, প্রথম পর্যায়ের অ্যান্টি-সিন্ডিকেট কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে, যদিও পুরো পরিকল্পনার সময়সূচি এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিনি আশ্বাস দেন, এই সংস্কার কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই সকলের জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে।



