গণতান্ত্রিক দলের সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ক্যাপিটল হিলের ঠিক বাইরে ন্যাশনাল মলে তারা “পিপলস স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন র্যালি” নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করবে। র্যালি সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় শুরু হবে, আর একই সময়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাত নয়টায় ট্রাম্পের ভাষণ শুরুর কথা।
র্যালির মূল উদ্দেশ্য হল ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতি প্রতিবাদ প্রকাশ করা। গণতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের নামে নির্বিচারে ধরপাকড়, মিনেসোটায় দুই আমেরিকান নাগরিকের গুলিবিদ্ধ মৃত্যু এবং আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগগুলোকে এই বর্জন কর্মসূচির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এবং প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিজ র্যালি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। উভয় নেতা একসাথে উল্লেখ করেছেন যে, র্যালি শুধুমাত্র একটি প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চলমান নীতি-সংক্রান্ত আলোচনার ওপর চাপ বাড়ানোর একটি মাধ্যম।
র্যালির সময়সূচি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী গণতান্ত্রিক কংগ্রেস সদস্যরা ন্যাশনাল মলে একত্রিত হয়ে ট্রাম্পের ভাষণ শোনার আগে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন। একই সঙ্গে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাত নয়টায় ভাষণ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা র্যালি ও ভাষণ উভয়ই একসাথে অনুষ্ঠিত হবে।
গণতান্ত্রিক দল উল্লেখ করেছে যে, র্যালি এবং ভাষণ বর্জনের মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের নীতি-দিকনির্দেশনা, বিশেষ করে অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে জনমত গঠন করতে চায়। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সংস্থার বাজেট কংগ্রেসে আটকে দেওয়া হয়েছে, যা এই প্রতিবাদকে আরও তীব্র করেছে।
আইস বাজেট আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কংগ্রেসের অভ্যন্তরে গভীর বিভাজনকে প্রকাশ করে। গণতান্ত্রিক দল এই পদক্ষেপকে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও আইন প্রয়োগের পদ্ধতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে, রিপাবলিকানরা বাজেট আটকে দেওয়াকে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই র্যালি এবং ভাষণ বর্জন কংগ্রেসে পার্টি-ভিত্তিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আসন্ন আইনসভা সেশনের সময় আইস বাজেট ও অন্যান্য অভিবাসন সংক্রান্ত বিলের ওপর আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে। গণতান্ত্রিক দলের এই পদক্ষেপটি রিপাবলিকানদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে নতুন শর্ত আরোপের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গণতান্ত্রিক দলের সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ট্রাম্পের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ বর্জনের মাধ্যমে অভিবাসন নীতি, আইস বাজেট এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। র্যালি ও ভাষণ বর্জনের সমন্বয় কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরবর্তী সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হবে।



