ইউএস পেন্টাগন সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহৎ বিমান সমাবেশ চালু করেছে, যেখানে এফ-২২ র্যাপ্টর, এফ-৩৫এ এবং ইউ-২ ‘ড্রাগন লেডি’ অন্তর্ভুক্ত। এই সমাবেশের লক্ষ্য আকাশপথে পূর্ণ আধিপত্য পুনরুদ্ধার এবং শত্রু শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করা। সমাবেশের মূল ভিত্তি ১৯৯০‑এর ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ কৌশল, যা তখন আকাশে আধিপত্যের মাধ্যমে দ্রুত বিজয় নিশ্চিত করেছিল।
বিমানগুলো ল্যাংলি বিমান ঘাঁটি থেকে একের পর এক ল্যাকেনহিথে পৌঁছেছে, যা বৃহৎ পরিসরের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এফ-২২ র্যাপ্টরের বিশাল বহর, এফ-৩৫এ লাইটনিং‑টু এবং ইউ-২ ড্রাগন লেডি একত্রে কাজ করে শত্রু সিস্টেমকে উচ্চ স্তরে পর্যবেক্ষণ ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে।
ইউ-২ ‘ড্রাগন লেডি’ ৭০ হাজার ফুটের উপরে উড়ে, ডিজিটাল ইমেজিং ও সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে শত্রু শিবিরের প্রতিটি নড়াচড়া রেকর্ড করে। এই উচ্চতা ও সেন্সর ক্ষমতা শত্রুর গোপনীয়তা ভাঙতে এবং লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৫ সালের জুনে সফলভাবে সম্পন্ন ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এই নতুন কৌশলের পরীক্ষামূলক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। ঐ অপারেশনে আকাশপথের আধিপত্যের মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল অর্জন করা হয়েছিল, যা এখন পুনরায় প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেভিড ডেপটুলা উল্লেখ করেছেন, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী ভূমি-যুদ্ধ এবং রাষ্ট্র গঠনের জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশপথের ঐতিহ্যবাহী শক্তি থেকে বিচ্যুত করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এখন সময় এসেছে সেই বিচ্যুতি সংশোধন করে পুনরায় আকাশে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ব্যবহার করে শত্রুকে দ্রুত পরাজিত করার দিকে ফিরে যাওয়া।
এই কৌশলগত পরিবর্তন শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; ইন্দো‑প্যাসিফিক অঞ্চলেও একই নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইউএস পেন্টাগন এই অঞ্চলে শত্রু শক্তির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলার জন্য উচ্চ-উচ্চতার গোয়েন্দা ও যুদ্ধবিমানের সমন্বয় বাড়াতে চায়।
দক্ষিণ কোরিয়া এবং ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সাম্প্রতিক যৌথ মহড়ায় এফ-৩৫এ লাইটনিং‑টু এবং এফ-২২ র্যাপ্টরের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা এবং চলমান লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আঘাতের প্রযুক্তি পরীক্ষা করা।
এই যৌথ প্রশিক্ষণে ডাইনামিক টার্গেটিং সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে, যা শত্রু গতি অনুসারে রিয়েল‑টাইমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এফ-২২ এবং এফ-৩৫এর সমন্বিত ব্যবহার আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন চালানোর এবং দ্রুত পুনরায় আক্রমণ করার সুযোগ দেয়।
মহড়াগুলোতে অংশগ্রহণকারী মিত্রবাহিনীও ইউ-২ ড্রাগন লেডির গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। উচ্চ-উচ্চতার রিকনেসেন্স ডেটা শত্রু স্থাপনা, সরবরাহ লাইন এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সুনির্দিষ্ট মানচিত্র তৈরি করতে সহায়তা করে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই সমাবেশের পরবর্তী ধাপ হবে অতিরিক্ত বিমান ও মিসাইল সিস্টেমের স্থাপন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও জটিল করবে। ইউএস পেন্টাগন ইতিমধ্যে ভবিষ্যৎ মাইলস্টোন হিসেবে ২০২৬ সালের শেষের দিকে ইন্দো‑প্যাসিফিকের নির্দিষ্ট বেসে অতিরিক্ত এফ-২২ ও ইউ-২ ইউনিট স্থাপন পরিকল্পনা করেছে।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পুনর্গঠন আকাশপথের আধিপত্যকে পুনরায় কেন্দ্রীয় কৌশল হিসেবে স্থাপন করছে এবং শত্রু শক্তিকে আকাশে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই ধারা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে, বিশেষ করে ইউ‑এস পেন্টাগন এবং ন্যাটোর সমন্বিত উপস্থিতি ইন্দো‑প্যাসিফিক ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে।



