বাংলাদেশের মহিলা ‘এ’ দল এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স নারী টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়ে ৫৪ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে। ম্যাচটি শুক্রবার ব্যাংককে টের্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ী দলটি রবিবার একই স্থানে ভারত এ-এর সঙ্গে ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
বাটিংয়ে বাংলাদেশ প্রথমে ২০ ওভারে ১১০ রান করে আটটি উইকেট হারায়। ক্যাপ্টেন ফাহিমা খাতুন ৩২ বলের ওপর অচল ৪০ রান গড়ে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন। তার পরের উচ্চ স্কোরার ছিলেন সরমিন সুলতানা, যিনি ১৫ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের হাফসা খালিদ দুইটি উইকেট নেয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্কোরে বড় পরিবর্তন আনতে পারেনি।
পাকিস্তান ১৬.৪ ওভারে মাত্র ৫৬ রান করে সম্পূর্ণ আউট হয়। বাংলাদেশের বলিং ইউনিটের মধ্যে ফাহিমা খাতুন তিন ওভারে ২ উইকেটের সঙ্গে মাত্র ৬ রান দিয়ে অতি কার্যকরী পারফরম্যান্স দেখান। সঞ্জিদা আক্তার মেঘলা ৩ উইকেটের সঙ্গে ৬ রান দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট পড়ে, ফলে স্কোর দ্রুত কমে যায়। বাংলাদেশের শৃঙ্খলাবদ্ধ বলিং আক্রমণ পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত দলটি ৫৬ রানেই আটকে যায়। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহিলা ‘এ’ দল ফাইনালে স্থান নিশ্চিত করে।
অন্য সেমিফাইনালে, ভারত এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে ফাইনালে প্রবেশ করে। এই ম্যাচে ভারত এ শক্তিশালী ব্যাটিং এবং বলিং প্রদর্শন করে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা ঘটায়।
এই টুর্নামেন্টটি পূর্বে ACC মহিলা T20 ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ নামে পরিচিত ছিল এবং প্রথমবার ২০২৩ সালে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময়ে ভারত এ বাংলাদেশকে ফাইনালে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল। এবার বাংলাদেশের ‘এ’ দল পুনরায় ফাইনালে পৌঁছানোর মাধ্যমে পূর্বের ফলাফলের বিপরীত দিক দেখাতে সক্ষম হয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচটি রবিবার একই টের্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের মহিলা ‘এ’ দলকে ভারত এ-এর সঙ্গে চূড়ান্ত টাইটেল জয়ের জন্য লড়াই করতে হবে। উভয় দলই টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, ফলে ফাইনাল ম্যাচটি ক্রীড়া প্রেমীদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হবে।
এই সেমিফাইনাল জয় বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটের উত্থানকে আরও দৃঢ় করে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা উভয়ই এই সাফল্যকে দলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখছে। ফাইনালের প্রস্তুতি চলাকালে দলটি প্রশিক্ষণ সেশন বাড়িয়ে তুলবে এবং কৌশলগত পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করবে, যাতে রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় নিশ্চিত করা যায়।



