30.9 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকুড়িগ্রামে নদীভাঙন ও বেকারত্বের সমাধান চায় নতুন সরকার

কুড়িগ্রামে নদীভাঙন ও বেকারত্বের সমাধান চায় নতুন সরকার

নতুন সরকার গৃহীত হওয়ার পর কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দারা বাস্তব ও টেকসই উন্নয়নের দাবি তুলে ধরছেন। তারা দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং শিক্ষা‑স্বাস্থ্যের অবহেলার সমাধান চাচ্ছেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।

উত্তরের সীমান্তে অবস্থিত কুড়িগ্রাম প্রতি বছর প্রায় ষোলোটি নদীর স্রোতে ভুগছে, যার মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার প্রধান। এই নদীগুলোর ধারাবাহিক ভাঙনের ফলে শত শত পরিবার বাসস্থান, কৃষিজমি, বিদ্যালয় ও সড়ক হারাচ্ছে, ফলে দৈনন্দিন জীবনের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, নদী শাসন প্রকল্পে ব্যয়িত বিশাল তহবিলের সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে কোনো সরাসরি উপকার পৌঁছাচ্ছে না। অস্থায়ী বাঁধ ও সাময়িক কাজগুলো সমস্যার মূল সমাধান দিতে পারছে না, তাই তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দাবি করছেন।

তাদের মতে, স্থায়ী বাঁধের নির্মাণ, নিয়মিত নদী খনন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী শাসন কার্যক্রম চালু করা হলে ভাঙনের ঝুঁকি কমবে এবং পুনরায় বসতবাড়ি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে, কর্মসংস্থানের অভাব কুড়িগ্রামের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পখাতের অনুপস্থিতির ফলে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুবকরা ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামসহ বড় শহরে কাজের সন্ধানে পা বাড়াচ্ছেন। এই অভিবাসন পরিবার ভেঙে দেয় এবং সামাজিক সমস্যার উত্থান ঘটাচ্ছে।

স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি কৃষিভিত্তিক শিল্প, হিমাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের সমর্থন এবং উদ্যোক্তা সহায়তা প্রোগ্রাম শক্তিশালী করা যায়, তবে জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, “কাজের সুযোগ না থাকায় পরিবার ছেড়ে দূরে যেতে চাই না; নতুন সরকারের কাছ থেকে একটাই প্রত্যাশা, এখানে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।”

যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চরের যুবক সাহিনুর রহমান জানান, “শিক্ষা শেষ করেও এখানে কোনো চাকরি নেই; যদি কোনো কারখানা থাকত, তবে এখানেই কাজ করতে পারতাম, না হলে বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হয়।”

বদলী পাড়ার শাজাহান আলী বলেন, “প্রতিবছর নদীর সঙ্গে লড়াই করে বাঁচি, সবকিছু হারিয়েছি; আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।”

চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার এক নেতার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৩ লক্ষ, যার মধ্যে সাড়ে ১৬ লক্ষের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ১৯৫০ সাল থেকে অব্যাহত নদীভাঙনের ফলে মানুষ বারবার তাদের বাড়ি বদলাতে বাধ্য হয়েছে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনগণের তীব্র চাহিদা পরবর্তী নির্বাচনী পর্বে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সরকার দীর্ঘমেয়াদী নদী ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থান প্রকল্পে অগ্রগতি দেখাতে পারে, তবে কুড়িগ্রামের ভোটারদের আস্থা বাড়বে এবং স্থানীয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments