30.9 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামোহাম্মদ সলাহুদ্দিন নাফিস আহমেদ নাদভীকে টি২০ বিশ্বকাপের সিদ্ধান্তে মিথ্যাবাদী অভিযোগ

মোহাম্মদ সলাহুদ্দিন নাফিস আহমেদ নাদভীকে টি২০ বিশ্বকাপের সিদ্ধান্তে মিথ্যাবাদী অভিযোগ

মোহাম্মদ সলাহুদ্দিন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ, নাফিস আহমেদ নাদভীকে টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত তার পূর্বের অবস্থান বদলানোর জন্য মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত করেছেন। এই মন্তব্যগুলো চলমান আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের সময় প্রকাশিত হয়, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়।

বছরের শেষের দিকে, নাফিস আহমেদ নাদভী সরকারী হস্তক্ষেপের ভিত্তিতে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দলকে বিরত রাখা হয়েছে। এই অবস্থান তখন পর্যন্ত ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল।

তবে, পদত্যাগের আগে নাফিস আহমেদ নাদভী হঠাৎ করে তার বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন যে, টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামত না শোনাই সিদ্ধান্তটি চাপিয়ে দিয়েছেন।

সলাহুদ্দিন এই পরিবর্তনকে ‘স্পষ্ট মিথ্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমি নিজে শিক্ষক, আর শিক্ষকেরা সাধারণত কমই মিথ্যা বলে। তিনি এত স্পষ্ট মিথ্যা বলতে পারেন—এটা কল্পনাতীত।” তিনি আরও যোগ করেন, “এমন উল্টো মোড়ে আমি কীভাবে দলের সামনে মুখোমুখি হতে পারি?”

শিক্ষকের পেশা নিয়ে সালাহুদ্দিনের মন্তব্যে বিশেষ দৃষ্টিকোণ দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, “তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন। এমন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক যদি মিথ্যা বলেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।” এই বক্তব্যে তিনি নাফিস আহমেদ নাদভীর পূর্বের এবং পরবর্তী অবস্থানের বৈপরীত্যকে তুলে ধরেছেন।

বছরের পরিসরে, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে খেলোয়াড়দের স্বপ্ন ভেঙে যায়। সালাহুদ্দিনের মতে, “একজন তরুণ ক্রিকেটার যখন বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখেন, তা তার ২৭ বছরের স্বপ্নের সমান। এক মুহূর্তে সেই স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যায়।” তিনি যোগ করেন, “যদি এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত হয়, তবে ত্যাগ স্বাভাবিক, তবে ব্যক্তিগত ক্ষতি নিয়ে কথা বললে আমি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা বলব।”

কোচের মতে, দুইজন খেলোয়াড় বিশেষভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি জানান, “দুইজন খেলোয়াড় কয়েক দিন অশান্তি ও হতাশায় ভুগেছিলেন, তাদের মনোভাব সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।” এই মানসিক আঘাতের ফলে দলের মনোবল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

তবুও, সালাহুদ্দিনের দৃষ্টিতে একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। তিনি বলছেন, “এই টুর্নামেন্টে আমরা আবার মাঠে ফিরতে পেরেছি, সেটাই আমার কোচিং জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।” তিনি উল্লেখ করেন, “খেলোয়াড়দের আবার মাঠে নিয়ে এসে স্কোর করতে দেখা আমাদের জন্য বড় অর্জন।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের ফলে দলকে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা এখনো সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়। তবে, কোচের মতে, দলের পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচে ফিরে আসা ইতিবাচক সংকেত বহন করে।

আসন্ন সময়ে, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরায় প্রতিযোগিতা করবে। কোচ সালাহুদ্দিনের মতে, “আমাদের লক্ষ্য হবে শীঘ্রই আবার শীর্ষে পৌঁছানো এবং খেলোয়াড়দের স্বপ্নকে পুনরায় জ্বালিয়ে তোলা।”

এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, নাফিস আহমেদ নাদভীর মন্তব্য ও সিদ্ধান্তের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে, বর্তমান সময়ে দলকে পুনরুদ্ধার ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাই প্রধান অগ্রাধিকার।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Cricbuzz
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments